বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু দাবি করেছেন, এনসিপি-জামায়াত নির্বাচন চায় না কারণ তারা আশঙ্কা করে, বিএনপি ক্ষমতায় ফিরে আসবে।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এক বক্তব্যে দাবি করেছেন, এনসিপি ও জামায়াত জোট বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচন চায় না, কারণ তাদের ধারণা—যদি নির্বাচন হয়, বিএনপি বিপুলভাবে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসবে। ফলে তারা নির্বাচন এড়িয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে চাইছে।
দুলুর বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য
দুলুর এই মন্তব্যে মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসে:
বিএনপির আস্থার প্রকাশ:
বিএনপি এখনো বিশ্বাস করে, সাধারণ মানুষের আস্থা তাদের দিকেই রয়েছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তারা ক্ষমতায় ফিরবে।
এনসিপি-জামায়াতের উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ:
বিরোধী পক্ষকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা করার অভিযোগ এনে তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, এরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।
রাজনৈতিক মেরুকরণের চিত্র:
বর্তমান সংকটে বিএনপি নির্বাচনী বৈধতাকে রাজনৈতিক শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করছে, আর অন্যপক্ষ সেই বৈধতা থেকে জনগণকে বঞ্চিত করতে চাইছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচন সবসময় ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে।
কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন প্রমাণ করছে যে, নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্বই মূলত বড় সংকটের জন্ম দিচ্ছে।
বিএনপি নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে চাইলেও, এনসিপি-জামায়াত জোট তা এড়িয়ে নিজস্ব কৌশলে টিকে থাকতে চাইছে।
এখানে মূল প্রশ্ন হলো, জনগণ কি সত্যিই বিএনপির সঙ্গে আছে? যদি থাকে, তবে নির্বাচন থেকে বিরত থাকা আসলে জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়ার সামিল।
আবার যদি জনগণের আস্থা বিভক্ত হয়, তবে এ ধরনের বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা হিসেবেই ধরা হবে।
দুলুর বক্তব্য বিএনপিকে স্বল্পমেয়াদে রাজনৈতিকভাবে উজ্জীবিত করলেও, দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা, তা নির্ভর করে জনগণের আস্থার ওপর।
