জিয়াউর রহমান রেসকোর্স ময়দানে শিশুপার্ক নির্মাণ করে ৭ই মার্চ ও মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের স্মৃতি মুছে ফেলতে চেয়েছিলেন। এটি ছিল তাঁর মানসিক বিকারগ্রস্ততা ও ইতিহাস বিকৃতির ষড়যন্ত্র।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ই মার্চের ভাষণ এবং ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় – এ দুটি অধ্যায় জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের আহ্বান জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে প্রস্তুত করেছিল, আর রেসকোর্স ময়দানেই পাকিস্তানি সেনারা আত্মসমর্পণ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বদরবারে ঘোষণা করে। অথচ সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান এই দুই মহান স্মৃতিকে মুছে দিতে ঐ স্থানেই ‘শিশুপার্ক’ নির্মাণ করেন।
এটি নিছক কোনো বিনোদনকেন্দ্র স্থাপন নয়; বরং ছিল একটি সচেতন রাজনৈতিক অপকৌশল, যা তাঁর মানসিক বিকারগ্রস্ততা এবং ইতিহাস বিকৃতির নোংরা প্রয়াসকে প্রকাশ করে।
জিয়া মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে ক্ষমতা দখল করে প্রথমেই চেষ্টা করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর নাম ও অবদানকে আড়াল করতে। তাঁর বিকারগ্রস্ত মানসিকতা প্রকাশ পায়—
বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলা: শিক্ষাব্যবস্থা, মিডিয়া ও সরকারি নথিতে বঙ্গবন্ধুকে আড়াল করা।
ভুয়া ঘোষণা প্রচার: স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে নিজের ভূমিকাকে প্রতিষ্ঠিত করার মিথ্যাচার।
স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস: মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের স্থান রেসকোর্স ময়দানকে তুচ্ছ করে দিতে শিশু বিনোদনকেন্দ্রে রূপান্তর।
জিয়া মূলত পাকিস্তানপন্থী সামরিক চক্রের প্রতিনিধি ছিলেন। তাঁর মানসিক বিকারগ্রস্ততা প্রকাশ পায়—
- ৭ই মার্চের ভাষণের স্থান আড়াল করতে।
- ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের ইতিহাস মুছে দিতে।
- মুক্তিযুদ্ধের আবেগকে ‘খেলাধুলা ও বিনোদন’-এর মধ্যে ঢেকে দিয়ে প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করতে।
প্রশ্ন উঠতে পারে, ঢাকায় অন্য কোনো জায়গা কি ছিল না?
অবশ্যই ছিল।
কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাত হানার জন্যই রেসকোর্স বেছে নেওয়া হয়।
জিয়া মূলত পাকিস্তানপন্থী সামরিক চক্রের প্রতিনিধি ছিলেন।
তাঁর মানসিক বিকারগ্রস্ততা প্রকাশ পায়—
- পাকিস্তানি শাসকদের সঙ্গে গোপন সম্পর্ক রক্ষা।
- স্বাধীনতার মূল নেতৃত্বকে ছোট করার রোগগ্রস্ত প্রবণতা।
- জনগণের মুক্তির ইতিহাস মুছে ফেলে সামরিক শাসন টিকিয়ে রাখার মানসিক আসক্তি।
শিশুপার্ক নির্মাণ হয়তো কিছু সময়ের জন্য মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে আড়াল করেছিল।
কিন্তু ইতিহাসকে ধ্বংস করা যায়নি।
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে সেই রেসকোর্স ময়দানকে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের স্মারকে পরিণত করেছেন।
আজ সেখানে বিজয়স্তম্ভ, জাদুঘর ও আত্মসমর্পণ স্মারক নতুন প্রজন্মকে সত্য ইতিহাস শিখিয়ে দিচ্ছে।
জিয়াউর রহমানের শিশুপার্ক নির্মাণ ছিল মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ।
এটি মানসিক বিকারগ্রস্ততা, পাকিস্তানপ্রীতি ও ইতিহাস বিকৃতির স্পষ্ট প্রমাণ।
কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সত্যকে মুছে ফেলার এই অপচেষ্টা সফল হয়নি।
আজ জাতি জানে—৭ই মার্চের ভাষণ ও ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।
