ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির নেতা পরিচয়দানকারী শিক্ষার্থী আলী হুসেন এক নারী নেত্রীকে গণধর্ষণের হুমকি দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভের ঝড় তুলেছেন। মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষার্থী ও আইনজীবীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। এই ঘটনায় শিবিরের সহিংস চরিত্র, নারীবিদ্বেষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ, যাকে “প্রাচ্যের অক্সফোর্ড” বলা হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, এখানেই আবার বারবার উগ্র রাজনীতি, সন্ত্রাস ও সহিংসতার কালো ছায়া দেখা দেয়। সর্বশেষ আলোচনায় এসেছে ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা পরিচয়দানকারী শিক্ষার্থী আলী হুসেন, যিনি এক নারী নেত্রীকে প্রকাশ্যে ‘গণধর্ষণের হুমকি’ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, সমর্থকদের প্রতিও দিয়েছেন একই ধরনের ভয়ঙ্কর হুমকি।
এটি নিছক একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নয়—এটি আমাদের সমাজ ও শিক্ষাঙ্গনের গভীর সংকটের প্রতিচ্ছবি।
বিগত কয়েক দশক ধরে ইসলামী ছাত্রশিবির সহিংস কর্মকাণ্ড, অস্ত্রধারণ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ ও নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের কারণে বিতর্কিত।
আলী হুসেনের হুমকি সেই ধারাবাহিকতারই সাম্প্রতিক প্রকাশ।
মুখে ধর্মীয় মূল্যবোধের কথা বললেও, নারীর প্রতি এদের মনোভাব বরাবরই শত্রুভাবাপন্ন।
গণধর্ষণের মতো অমানবিক হুমকি কেবল একটি ব্যক্তিগত মন্তব্য নয়, বরং এটি একটি সংগঠিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি।
এই ঘটনায় নারী অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।
মানবাধিকারকর্মীরা একে দেখছেন সমাজের স্বাধীনচেতা ও নেতৃত্বদানকারী নারীদের ভয় দেখানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে।
নারীর প্রতি বিদ্বেষী মানসিকতা যখন রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে ওঠে, তখন তা গোটা সমাজের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এ ধরনের ভাষা ও মানসিকতা দেশের জন্য লজ্জাজনক।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এটি দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করে।
“প্রাচ্যের অক্সফোর্ড” নামে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যদি প্রকাশ্যে গণধর্ষণের হুমকি দেয়, তবে এর প্রভাব সমাজে ভয়াবহ বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
কেবল বহিষ্কার করলেই চলবে না—এমনটাই বলছেন শিক্ষার্থী ও আইনজীবীরা।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও দণ্ডবিধি অনুযায়ী এটি একটি স্পষ্ট সাইবার অপরাধ এবং নারীর প্রতি সহিংস হুমকি।
যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হয়, তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়বে।
আলী হুসেনের এই হুমকি কেবল একজন নারী নেত্রীকে লক্ষ্য করে নয়; এটি গোটা সমাজের নারীদের উদ্দেশ্যে এক অশুভ বার্তা।
কিন্তু আশার দিক হলো—এই ঘটনায় ছাত্রসমাজ, সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকার কর্মীরা সোচ্চার হয়েছেন।
এখন দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাষ্ট্রের—তারা কি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে নারীর নিরাপত্তার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনবে, নাকি আবারও দায়িত্ব এড়িয়ে যাবে?
