ডা. জাহিদুর রহমান এখন জামায়াতের ভয়ে শঙ্কিত। অথচ একসময় তিনি এই দলকেই ক্ষমতায়ন করেছেন। কেন তিনি আজ দ্বৈত অবস্থানে, তার নৈতিকতা নিয়েই বড় প্রশ্ন উঠছে। পড়ুন বিশ্লেষণ।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে ডা. জাহিদুর রহমানের বক্তব্য ও অবস্থান এক বিরাট বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে, জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি মানুষকে “ইসলামবিরোধী” বা “নাস্তিক” ট্যাগ দিয়ে হত্যাযোগ্য করে তোলে। অথচ একই ব্যক্তি আবার এই দলের রাজনৈতিক অধিকার নিয়েও সোচ্চার। এই দ্বৈত অবস্থান শুধু রাজনৈতিক নয়, নৈতিকতারও এক বড় প্রশ্ন তুলে ধরছে।
ডা. জাহেদের দাবি অনুযায়ী, জামায়াত এমন এক রাজনীতি চর্চা করে যেখানে ভিন্নমত দমনই প্রধান অস্ত্র।
ইতিহাস সাক্ষী, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে তাদের ভূমিকা, ২০০১-২০০৬ সালে ক্ষমতার অংশীদারিত্ব কিংবা সাম্প্রতিক ইউনূস সরকারের সময়কার প্রভাব—সবকিছুই দেখিয়েছে, এই দল ধর্মীয় ট্যাগ ব্যবহার করে ভয় ও বিভাজন ছড়িয়েছে।
এমন একটি রাজনৈতিক শক্তিকে জায়গা করে দেওয়ার ফল আজ ডা. জাহেদের নিজের জীবনেই প্রতিফলিত হচ্ছে।
তিনি এখন নিজের প্রাণ নিয়ে শঙ্কিত, কারণ যারা একদিন তার হাত ধরে শক্তি পেয়েছিল, তারাই এখন তাকে আক্রমণাত্মকভাবে “নাস্তিক” আখ্যা দিচ্ছে।
ডা. জাহেদ দাবি করেন, আওয়ামী লীগও নাকি ট্যাগের রাজনীতি করে।
অথচ পার্থক্য হলো—আওয়ামী লীগ সরকার আমলে সমালোচনা করা সম্ভব হয়েছে, এবং অনেকে নির্ভয়ে তা করেছেন।
কিন্তু বর্তমান জামায়াত-প্রভাবিত ইউনূস সরকারের আমলে ভিন্নমত প্রকাশ করলেই গ্রেপ্তার, হয়রানি বা ট্যাগ খাওয়ার ঝুঁকি দেখা যাচ্ছে।
সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান কিংবা শফিকুল ইসলামের উদাহরণ এর সাক্ষ্য বহন করছে।
তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—
ডা. জাহেদ যখন জামায়াতের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষায় সোচ্চার, অথচ আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে সেই অধিকার হরণের বৈধতা দেখেন, তখন তার অবস্থান কতটা সৎ ও নৈতিক?
কিছুদিন আগে ডা. জাহেদ নিজেই বলেছেন, তিনি বর্তমানে বিসিএস ভাইভা বোর্ডের সদস্য।
এখানে স্বাভাবিক প্রশ্ন উঠে—কোন যোগ্যতায়?
কোন প্রক্রিয়ায়?
আওয়ামীবিরোধী অবস্থান নিয়ে ইউনূস সরকারের সুবিধাভোগ করা একজন ব্যক্তি কীভাবে আবার সততা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার নৈতিক অধিকার রাখেন?
এই দ্বৈত চরিত্রই আসল বিতর্কের জায়গা।
কারণ যে কালসাপকে লালন-পালন করা হয়েছিল, সেই কালসাপের ছোবল আজ নিজের দিকেই ফিরছে।
ডা. জাহিদুর রহমানের প্রতি ব্যক্তিগত আক্রমণ করার প্রয়োজন নেই।
তবে তার বক্তব্য, অবস্থান ও কর্মকাণ্ডই তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
তিনি যদি সত্যিই ন্যায়ের পক্ষে থাকতে চান, তবে প্রথমেই তাকে স্বীকার করতে হবে—যে রাজনীতি হত্যা, ট্যাগ আর বিভাজনকে হাতিয়ার করে, সেই রাজনীতির কোনো সভ্য অধিকার নেই।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি হতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মানবিক ও মূল্যবোধনির্ভর।
অন্যথায় যারা কালসাপ লালন করবেন, একদিন সেই ছোবল তাদেরকেই গ্রাস করবে।
