রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামালের মন্তব্যে নতুন করে আলোচনায় ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। কেন তাকে বলা হচ্ছে ‘সেফ এক্সিট’-এর তালিকার শীর্ষে? বিশ্লেষণে উঠে এসেছে উপদেষ্টাদের ক্ষমতাচর্চা, রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও সরকারের দায়।
বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের ঘিরে ‘সেফ এক্সিট’ শব্দটি এখন রাজনৈতিক অভিধানে নতুন মাত্রা পেয়েছে। সম্প্রতি সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল এক টক শোতে মন্তব্য করেন—“সেফ এক্সিটের তালিকা করলে সবার ওপরে থাকবে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের নাম।”
তার এই বক্তব্য শুধু সামাজিক মাধ্যমে নয়, প্রশাসনিক পর্যায়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছে— সরকারের অভ্যন্তরে আসলে কী চলছে?
দুই দিন আগেই অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন।
মাসুদ কামালের অভিযোগ— সেখানে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।
তিনি বলেন,
“যেখানে হাত দিয়েছেন সেখানেই বিতর্ক।
এত ছোট বয়সে এত বড় দায়িত্ব দেওয়ায় আজ সরকার নিজেই বিপাকে পড়েছে।”
একইসঙ্গে, প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র বলছে, ক্রীড়া খাতের বাজেট বণ্টন থেকে শুরু করে বড় স্পোর্টস প্রকল্পের অনুমোদনে আসিফ মাহমুদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল।
সবচেয়ে আলোচিত অংশ এসেছে স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন (এলজিডি) বরাদ্দকে ঘিরে।
মাসুদ কামালের মতে,
“আসিফ মাহমুদ নিজের এলাকা কেন্দ্রীক বিপুল উন্নয়ন প্রকল্পে প্রভাব খাটিয়েছেন— যা অন্য জেলাগুলোর তুলনায় অসমানভাবে বেশি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বরাদ্দের পেছনে রয়েছে ভবিষ্যতের নির্বাচনী প্রস্তুতি।
স্থানীয় জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই উন্নয়ন কার্যক্রমকে।
সেফ এক্সিট— আসলে কার প্রয়োজন?
‘সেফ এক্সিট’ বা নিরাপদ প্রস্থান তত্ত্ব মূলত সেই সময় ব্যবহৃত হয় যখন ক্ষমতার অন্তর্গত ব্যক্তিরা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় নিজেদের অবস্থান রক্ষার কৌশল খোঁজেন।
মাসুদ কামাল বলেন,
“যখন নির্বাচনে জামানত হারাবেন, তখনই হয়তো বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে রাখার চেষ্টা করবেন।”
তার এই ইঙ্গিত শুধু আসিফ মাহমুদের দিকে নয়— বরং অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যান্য বিতর্কিত উপদেষ্টাদের প্রতিও নির্দেশ করছে।
অধিকাংশ রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, এই অবস্থার জন্য দায়ী সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া।
এক তরুণ উপদেষ্টাকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল ঝুঁকিপূর্ণ।
আজ সেই সিদ্ধান্তই সরকারের ওপর “বিতর্কের দায়” চাপিয়ে দিচ্ছে।
একজন সাবেক আমলা বলেন,
“যদি সরকারের ভেতরে ‘অ্যাকাউন্টেবিলিটি’ থাকত, তবে এই বিতর্ক তৈরি হতো না।
বরং এখন দেখা যাচ্ছে— প্রতিটি উপদেষ্টা নিজস্ব ক্ষমতাকেন্দ্র গড়ে তুলছেন।”
অন্তর্বর্তী সরকারের এই পর্যায়ে ‘সেফ এক্সিট’ তত্ত্ব কেবল রাজনৈতিক ব্যঙ্গ নয়— এটি এখন ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ সংকটের প্রতিফলন।
ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম তালিকার শীর্ষে থাকা হয়তো কাকতালীয় নয়, বরং এটি এক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি—
যেখানে জবাবদিহিতা হারিয়ে গেছে, আর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ‘এক্সিট রুট’-এর ওপর।
