মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (AA) গুরুতর অভিযোগ করেছে যে বিজিবির কিছু কর্মকর্তা আরসা ও আরএসও-কে মদদ দিচ্ছেন। ১১ই অক্টোবরের বিবৃতিতে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, নিষ্ক্রিয়তা দুই দেশের সম্পর্ক ও আঞ্চলিক শান্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (AA) বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কিছু কর্মকর্তা ও সদস্যের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ এনেছে। আরাকান আর্মির রাজনৈতিক শাখা ইউনাইটেড লীগ অব আরাকান (ইউএলএ)-এর গত ১১ই অক্টোবর, শনিবারের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, বিজিবির অসাধু সদস্যরা সন্ত্রাসী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) এবং রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও)-কে পরোক্ষভাবে মদদ দিচ্ছে। এই অভিযোগ দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

অভিযোগের মূল দিক: বিজিবি কর্মকর্তাদের যোগসাজশ
ইউএলএ-এর বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত বিজিবি কর্মকর্তা ও সদস্য কেবল চরমপন্থী মতাদর্শে সহানুভূতিশীল নন,
বরং আরসা সদস্যদের সংঘর্ষের পর পরিবহন, চিকিৎসা, খাদ্য ও অস্ত্র সরবরাহে সরাসরি সহায়তা করছেন।
এমনকি, তাদের দাবি অনুযায়ী, এই কর্মকর্তারা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর জন্য নেতৃত্ব, নিরাপত্তা, সামরিক গোয়েন্দা তথ্য এবং আকাশপথে নজরদারিও নিশ্চিত করছেন।
যদি এই অভিযোগ সত্য হয়, তবে এটি বাংলাদেশের সীমান্ত সুরক্ষার নৈতিকতা এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের উপর গুরুতর প্রশ্ন তুলবে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে,
আরসা ও আরএসও-র কাছ থেকে জব্দ করা অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম নাকি কিছু অসাধু বিজিবি কর্মকর্তারা বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন, যা সীমান্ত অঞ্চলে চরমপন্থা ও সহিংসতা আরও উসকে দিচ্ছে।
ইউএলএ-এর মতে, মিয়ানমারের সামরিক জান্তা, এই দুর্নীতিগ্রস্ত বিজিবি কর্মকর্তা এবং মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি গোপন সমঝোতা তৈরি হয়েছে,
যা ভবিষ্যতে সীমান্তে যৌথ আক্রমণের মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
বাংলাদেশের প্রতি হুঁশিয়ারি ও বার্তা
আরাকান আর্মির এই বিবৃতিটি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি একটি সরাসরি চ্যালেঞ্জ।
ইউএলএ তাদের আহ্বান জানিয়েছে যেন দ্রুত এই দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং আরসা ও আরএসও-র বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
বিবৃতির শেষাংশে একটি কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ইউএলএ সতর্ক করে বলেছে, “ইউনূস সরকারের নিষ্ক্রিয়তা” শুধু সীমান্তের স্থিতিশীলতাই নয়, দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আস্থাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এর পাশাপাশি আরও বলা হয়েছে, যদি বাংলাদেশ বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের দমনে ব্যর্থ হয়,
তবে তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সীমান্তের স্থিতি এবং বৃহত্তর আসিয়ান অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
আরাকান আর্মির এই প্রকাশ্য এবং গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একদিকে যেমন এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি,
তেমনি আন্তর্জাতিক স্তরে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করাও অত্যাবশ্যক।
এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, রোহিঙ্গা সংকট এবং মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত এখন সরাসরি বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে।
