জাতীয় নাগরিক পার্টির সামান্তা শারমিনের অভিযোগ— অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নয়, নিজেদের আখের গুছানো নিয়েই ব্যস্ত। তিনি বলেন, এ সরকারও আজ জনগণের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে, শিক্ষকদের দাবির প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপর জনগণের যে বিশাল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে হতাশায় পরিণত হচ্ছে। বিশেষত শিক্ষা খাতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা এবং শিক্ষক সমাজের প্রতি অবহেলা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনের বক্তব্য এই হতাশাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা “নিজের আখের গোছানো” নিয়েই ব্যস্ত, যেখানে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে।
তার বক্তব্যে এক ধরনের তীব্র ক্ষোভের প্রতিফলন দেখা যায়—
“মন্ত্রণালয়ের জন্য কোটি টাকা দিয়ে গাড়ি কেনা যায়, কিন্তু শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিতে গেলে সরকারের কাছে টাকা থাকে না।”
অন্তর্বর্তী সরকারের গঠনমূলক ভূমিকা নিয়ে জনমনে যেমন প্রত্যাশা ছিল, বাস্তবতা তেমন হয়নি।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতি সরকারের উদাসীন মনোভাব এই ব্যর্থতার অন্যতম উদাহরণ।
শিক্ষকরা যে ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পান, তা দিয়ে তাদের ন্যূনতম জীবনধারণও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সামান্তা শারমিনের বক্তব্যে উঠে এসেছে এক গভীর অভিযোগ— “শিক্ষকদের নিম্নবিত্ত পর্যায়ে রাখাই যেন সরকারের উদ্দেশ্য।”
এটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি একটি মানসিক অবমূল্যায়নও বটে।
সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা যখন ক্রমে ক্ষয়ে যাচ্ছে, তখন রাষ্ট্রীয় নীতি ও প্রণোদনার ঘাটতি এই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে অনেকেই আশা করেছিলেন, একটি নতুন জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কিন্তু তার পরিবর্তে সরকার এখন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে বেশি মনোযোগী বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ অভিযোগ কেবল রাজনৈতিক নয়—এটি রাষ্ট্রের মৌলিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নও উত্থাপন করে।
একটি সরকার যদি শিক্ষা খাতে স্থিতিশীলতা ও সম্মান ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার গণতান্ত্রিক রূপ কতটা টেকসই, সেই প্রশ্ন জাগে।
নৈতিক দায়বদ্ধতা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের প্রতি সামান্তা শারমিনের অভিযোগ সরাসরি নৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করে।
জনগণের টাকায় মন্ত্রণালয়ের গাড়ি কেনা, সুবিধা ভোগ— এগুলো শুধু প্রশাসনিক নয়, নৈতিক দায়বদ্ধতারও ইঙ্গিতবাহী।
যখন সরকারই জনগণের বিপক্ষে দাঁড়ায়, তখন গণমানুষের আন্দোলনই হয়ে ওঠে নতুন প্রতিরোধের ভাষা।
বাংলাদেশের শিক্ষা খাত এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।
অতীতের রাজনৈতিক চতুরতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এই খাত বারবার উপেক্ষিত হয়েছে।
সামান্তা শারমিনের বক্তব্য হয়তো রাজনৈতিক, কিন্তু এর অন্তরালে যে বাস্তবতা—তা অস্বীকারের উপায় নেই।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা টিকিয়ে রাখতে হলে এখনই শিক্ষা খাতের প্রতি কার্যকর ও মানবিক পদক্ষেপ নিতে হবে।
অন্যথায় “অন্তর্বর্তী” সরকারের প্রতি জনআস্থা আর ফিরবে না—বরং ইতিহাসের পাতায় তারা স্থান পাবেন আরেকটি ব্যর্থ অধ্যায়ের নায়ক হিসেবে।
