গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানের বক্তব্যে নতুন করে উত্থাপিত হয়েছে “আরেকটি ১/১১” আতঙ্ক। নির্বাচনের আগে আন্দোলনের ভেতরে রাজনৈতিক ইন্ধন ও আওয়ামী লীগের পুনরাগমন প্রসঙ্গে তার সতর্কতা কী বার্তা দিচ্ছে?
বাংলাদেশের রাজনীতিতে “১/১১” শব্দটি কেবল একটি তারিখ নয়, বরং একটি গভীর রাজনৈতিক প্রতীক—সামরিক তত্ত্বাবধায়ক শাসনের দুঃসহ স্মৃতি। ২০০৭ সালের সেই ১/১১-এর পর দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ কারাবন্দি হন, স্থগিত হয় রাজনৈতিক কার্যক্রম, আর প্রতিষ্ঠিত হয় একটি “সংশোধনবাদী” প্রশাসন। ১৮ বছর পর, সেই ১/১১-এর ছায়া আবারও ফিরে আসছে রাজনৈতিক আলোচনায়—এইবার মুখ খুলেছেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
রাশেদ খানের সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্টে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন,
নির্বাচনের আগে নানা দাবিদাওয়া ঘিরে যে আন্দোলনগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, তার ভেতরে “রাজনৈতিক ইন্ধন” কাজ করছে।
তার মতে, এই ইন্ধনই পরিণত হতে পারে আরেকটি ১/১১ সৃষ্টির কৌশলে।
তিনি উল্লেখ করেন, “চোখে মনে হবে সাধারণ চাকরিজীবী বা শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে, কিন্তু বাস্তবে এর ভেতরে থাকবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য।”
এই বক্তব্যে দুইটি দিক বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়—
প্রথমত, রাশেদ খান আন্দোলনের ধারাকে কেবল সামাজিক প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন না, বরং এর ভেতরে তিনি দেখছেন রাজনৈতিক শক্তির পরিকল্পিত ‘অভ্যুত্থানমূলক’ গতি।
দ্বিতীয়ত, তিনি সরাসরি আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, “আরেকটি ১/১১-এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ফিরলে কারো রক্ষা হবে না।”
এই সতর্কবাণী কেবল একটি রাজনৈতিক মন্তব্য নয়, বরং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন পরিস্থিতিতে ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের এক আশঙ্কামূলক পূর্বাভাসও বটে।
তার বক্তব্যের মধ্যে একটি গভীর বার্তা নিহিত আছে
বাংলাদেশের রাজনীতি আবারও সেই চক্রাকার অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে,
যেখানে জনগণের দাবি ও রাজনীতির খেলা একে অপরের সঙ্গে মিশে গিয়ে এক নতুন সংকটের জন্ম দেয়।
রাশেদ খান উদাহরণ হিসেবে আনসার সমাবেশের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন, যেখানে সাধারণ আনসার সদস্যদের দাবির আড়ালে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ উঠেছিল।
তার বিশ্লেষণে, ঠিক একইভাবে বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের ভেতরেও এখন রাজনৈতিক অভিপ্রায় লুকিয়ে থাকতে পারে।
তিনি বলেন, “ভারত ও আওয়ামী লীগ সামাজিক আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে দেশকে অচল করতে তৎপর।”
এই বক্তব্যটি নিছক অভিযোগ নয়, বরং আন্তঃদেশীয় প্রভাবের প্রশ্নও উত্থাপন করছে—
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আন্দোলনে বাইরের শক্তি বা আঞ্চলিক স্বার্থ কতটা ভূমিকা রাখছে, সেটিও নতুন করে আলোচনায় আসছে।
অন্যদিকে, রাশেদ খানের বক্তব্যের শেষ অংশটিও তাৎপর্যপূর্ণ—তিনি বলেন,
“সরকার ঘোষিত সময়ে নির্বাচন না হলে নতুন করে ১/১১-এর মতো সংকট সৃষ্টি হবে, আর সেই সংকটে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টাদের জেলে ঢোকানো হবে।”
এই উক্তি সরাসরি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকেও রাজনৈতিক টার্গেটে পরিণত করা হতে পারে যদি নির্বাচন বিলম্বিত হয় বা পরিস্থিতি অচল হয়।
