ঢাকা বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড কি শুধুই দুর্ঘটনা, নাকি হাজার কেজি স্বর্ণ গায়েবের মেটিকুলাস ডিজাইন? প্রশাসনিক ব্যর্থতা, রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি ও গোপন শক্তির আঁতাত—সবই মিলছে এক অন্ধকার ইঙ্গিতে।
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, তা কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়—এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় অস্বচ্ছতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের সবচেয়ে সুরক্ষিত এলাকায়, যেখানে প্রতিটি পণ্যের গন্তব্য ও গতিপথ ইলেকট্রনিকভাবে রেকর্ড করা হয়, সেখানে আগুন লাগার আগে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার খবর জনমনে গভীর সন্দেহ তৈরি করেছে।
গত কয়েক বছরে শুল্ক কর্তৃপক্ষ প্রায় ১৩,০০০ কেজি স্বর্ণ জব্দ করেছিল—যা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, ঠিক সেই স্থানেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে, যেখানে এসব স্বর্ণ জব্দ রাখা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অগ্নিকাণ্ড কোনো আকস্মিক বিপর্যয় নয়, বরং এটি ছিল এক মেটিকুলাস ডিজাইন, যার মূল লক্ষ্য ছিল প্রমাণ নষ্ট করা ও অবৈধ স্বর্ণ পাচারকে গোপন রাখা।
যে মাত্রার নিরাপত্তা ও নজরদারি বিমানবন্দর কার্গো এলাকায় থাকে, সেখানে পরিকল্পিত আগুন ছাড়া এমন বিপর্যয় সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
প্রশাসনের ভেতরে থাকা প্রভাবশালী মহল, রাজনীতির ছায়ায় থাকা গোষ্ঠী এবং কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার যোগসাজশ ছাড়া এটি ঘটতে পারে না।
বাংলাদেশে বহুবার দেখা গেছে—
যখনই বড় কোনো দুর্নীতি বা পাচার চক্র প্রকাশ্যে আসে, তখনই হঠাৎ কোনো ‘দুর্ঘটনা’ ঘটে, যার আগুনে পুড়ে যায় প্রমাণ, রেকর্ড ও নথি।
এবারও কি তাই হলো?
চিফ প্রসিকিউটরের ‘পূর্বাভাস’ কি কাকতালীয়?
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সম্প্রতি বলেছিলেন, “আগামী এক সপ্তাহে বড় কিছু ঘটবে।”
তার এই বক্তব্য ও বিমানবন্দরের আগুনের সময়কাল একে অপরের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় জনমনে আরও প্রশ্ন জেগেছে—এই “বড় কিছু” কি এই আগুনই ছিল?
যদি তাই হয়, তবে এটি কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় প্রমাণ ধ্বংসের এক পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা।
সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
কিন্তু জনগণের প্রশ্ন—এই তদন্ত কি সত্যিই নিরপেক্ষ হবে?
বাংলাদেশে অতীতে এমন অনেক ‘তদন্ত’ হয়েছে, যার ফলাফল কখনোই প্রকাশ পায়নি।
আগুনের ধোঁয়া মিলিয়ে গেছে, কিন্তু সন্দেহের ধোঁয়া এখনো ঘন হয়ে ভাসছে আকাশে।
ঢাকা বিমানবন্দরের এই অগ্নিকাণ্ড বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরকার দুর্বলতা, অসততা ও গোপন আঁতাতের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
এটি কেবল কয়েক ঘণ্টার আগুন নয়—এটি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা, সুশাসনের ধারণা এবং জনগণের বিশ্বাসের ওপর এক ভয়াবহ আঘাত।
একটি প্রশ্ন এখন সর্বজনীন:
এই আগুন কি সত্যিই দুর্ঘটনা, নাকি রাষ্ট্রীয় প্রমাণ মুছে ফেলার নয়া কৌশল?
