দৈনিক কালের কণ্ঠের সাম্প্রতিক এক জরিপে ৯৫% মানুষ জানিয়েছেন— বাংলাদেশ শেখ হাসিনার হাতেই নিরাপদ। রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা সংকট ও আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে জনগণের এই আস্থা কী বার্তা দিচ্ছে?
দৈনিক কালের কণ্ঠ সম্প্রতি একটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিল— “বাংলাদেশ কার হাতে নিরাপদ থাকবে বলে আপনি মনে করেন?”
অল্প সময়েই কমেন্ট সেকশন ভরে যায় হাজারো প্রতিক্রিয়ায়। আশ্চর্যজনকভাবে, প্রায় ৯৫ শতাংশ কমেন্টেই একটি নাম বারবার উঠে এসেছে— শেখ হাসিনা। অনেকে লিখেছেন, “শেখ হাসিনার হাতে ছাড়া বাংলাদেশের কোনো নিরাপত্তা নেই।” কেউ বলেছেন, “হাসিনা ছাড়া দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে।”
এই অনলাইন প্রতিক্রিয়া কেবল একটি পোস্টের প্রতিফলন নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে জাতির নিরাপত্তা ও নেতৃত্বের প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে।
একসময় জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল উন্নয়ন, মেগা প্রকল্প ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা।
কিন্তু গত এক বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও অন্তর্বর্তী সরকারের আগমন সেই আলোচনাকে সরিয়ে দিয়েছে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে।
নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে নতুন সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও, নিরাপত্তার দৃশ্যপট ক্রমেই জটিল হচ্ছে।
ফ্রিডম হাউসের রিপোর্ট জানাচ্ছে— রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, সহিংসতা এবং জঙ্গিবাদের উত্থান এখনো রোধ করা যায়নি।
আল-কায়েদা-সমর্থিত আনসার আল-ইসলামের নেতার মুক্তি এবং রাজধানীতে “খিলাফতের” দাবিতে মিছিল নিরাপত্তা কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধ বাংলাদেশের সীমান্তে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
রোহিঙ্গা শিবিরে অস্ত্র চোরাচালান, চোরাকারবারিদের আধিপত্য ও সীমান্তবর্তী সহিংসতা কক্সবাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।
এদিকে, আইএমএফের ঋণ প্রাপ্তির পরও মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্ব সামাজিক অস্থিরতা বাড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপ সতর্ক করেছে— নির্বাচনের অনিশ্চয়তা রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে, যা জঙ্গিবাদকে মাথাচাড়া দিতে সাহায্য করতে পারে।
শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা
এই কঠিন সময়েই জনগণ আবার ফিরে তাকাচ্ছে শেখ হাসিনার দিকে।
তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মডেলই হয়নি, বরং সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধেও সফল হয়েছিল।
ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি— যা আন্তর্জাতিকভাবে দেশের অবস্থান শক্ত করেছে।
একজন নেটিজেনের ভাষায়,
“হাসিনার সময়ে সীমান্ত নিরাপদ ছিল, বিদেশে বাংলাদেশের মর্যাদা ছিল। এখন কেবল অনিশ্চয়তা।”
এই বক্তব্যগুলো একটি বিষয় স্পষ্ট করছে— জনগণ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা চায়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সমর্থকরা বলছেন, “সংস্কারের মাধ্যমে নতুন নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি হবে।”
অন্যদিকে, বিএনপি নেতা তারেক রহমান নির্বাচনের দাবি তুললেও জনগণের আস্থার এই প্রবল ঢেউ তাদের জন্য এক বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
বিশ্লেষকদের মতে,
“রাজনৈতিক শূন্যতা যত গভীর হবে, ততই সন্ত্রাসী নেটওয়ার্করা সক্রিয় হবে। জাতীয় ঐক্যের অভাবই এখন সবচেয়ে বড় হুমকি।”
“বাংলাদেশ কার হাতে নিরাপদ?”— এই প্রশ্ন কেবল সোশ্যাল মিডিয়ার নয়, এটি জাতির অস্তিত্বের মৌলিক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কালের কণ্ঠের জনমত জরিপ স্পষ্ট করেছে— বাংলাদেশের জনগণ এখনো শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতীক খুঁজে পান।
অর্থনীতি, কূটনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে আজকের বাংলাদেশ এক সন্ধিক্ষণে।
এই পরিস্থিতিতে জনমতের এই বার্তা যেন নীতিনির্ধারকদের জন্যও এক সতর্ক ইঙ্গিত—
দেশ নিরাপদ থাকে তখনই, যখন নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আস্থা অটুট থাকে।
