বাংলাদেশের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন বইয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি— সেনাপ্রধান সিআইএ-সম্পৃক্ত, শেখ হাসিনাকে দ্বিমুখীভাবে প্রতারণা করেছেন।
বাংলাদেশের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক নতুন বইয়ে দাবি করেছেন, দেশের বর্তমান সেনাপ্রধান সিআইএর সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রাখতেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘দ্বিমুখী প্রতারণা’র শিকার হতে হয়েছে। এই তথ্য প্রকাশের পর থেকেই দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

শেখ হাসিনা ও সেনাবাহিনীর সম্পর্কের টানাপোড়েন
বইয়ে বলা হয়, শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনীকে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর অংশ হিসেবে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছেন।
তবে গত কয়েক বছরে সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বিদেশি প্রভাব ক্রমে বেড়ে যায়।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে,
“দ্বিমুখী খেলা”র মাধ্যমে সেনাপ্রধান একদিকে শেখ হাসিনার আস্থা অর্জন করেন, অন্যদিকে বিদেশি শক্তির সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রক্ষা করেন।
মার্কিন সংযোগের ইঙ্গিত
লেখক দাবি করেন, এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (CIA) সক্রিয় ভূমিকা রাখে।
তাদের কৌশল ছিল দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্গঠন, যার লক্ষ্য ছিল ভারতের প্রভাব দুর্বল করা এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামোকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।
দ্বিমুখী প্রতারণা’ কীভাবে ঘটেছিল
বইয়ের ভাষ্যমতে, শেখ হাসিনাকে বিভ্রান্ত করার জন্য সেনাপ্রধান বারবার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ হুমকি নিয়ে ভুয়া রিপোর্ট দিতেন।
একইসঙ্গে বিদেশি মিশনগুলোর সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখতেন।
লেখক দাবি করেন, “যখন শেখ হাসিনা মনে করছিলেন তিনি নিরাপদ, তখনই তাঁকে ঘিরে ফেলা হচ্ছিল ধীরে ধীরে— এক পরিকল্পিত ফাঁদে।”
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তথ্য সত্য হলে এটি শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তারও বড় ইস্যু। সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্নেল (অব.) আলী হায়দার বলেন, “যদি কোনো সেনাপ্রধান বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন, তবে সেটি রাষ্ট্রদ্রোহের সামিল।”
সরকারের অবস্থান
এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। তবে আওয়ামী লীগ নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন— বিষয়টি যদি সত্য হয়, তবে এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জাতীয় ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত হবে।
বিশ্লেষণ: অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসের ভাঙন
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের মতো একটি দেশ, যেখানে সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে ভারসাম্য সংবেদনশীল, সেখানে এই ধরনের প্রতারণা বা গোপন বিদেশি প্রভাব গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি।
এটি শুধু নেতৃত্বের সংকট নয়, বরং একটি জাতির নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও আঘাত।
