প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমকে ‘উন্মাদের মতো কথা বলেন’ বলে মন্তব্য করেছেন বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। পোশাক খাতের সংকট নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমকে ‘উন্মাদের মতো কথা বলেন’ বলে কটাক্ষ করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। দেশের পোশাক খাতের চলমান সংকট ও তা উত্তরণের উপায় নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
রবিবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ওই সভায় শওকত আজিজ রাসেল বলেন,
“তার একটা ফেসবুক পেজ আছে, সেখানে তিনি উল্টাপাল্টা কথা বলে মানুষকে বিব্রত করেন।
সঠিক লোক যদি সঠিক জায়গায় না থাকে, তাহলে সঠিক সিদ্ধান্তও আসবে না।” তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স
অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুর মিটিংয়ের সুযোগ না পাওয়াটা দুঃখজনক।
“এখনও পর্যন্ত বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। তাহলে আপনি (প্রেস সচিব) এ দায়িত্ব নিলেন কেন?
বিগত সরকারের সময় যেসব খেলাধুলা হয়েছে, এখন আবার সেই নাটক শুরু হয়েছে,” — যোগ করেন তিনি। পোশাক শিল্পের সাম্প্রতিক সংকট প্রসঙ্গে রাসেল বলেন,
দেশের টেক্সটাইল ও গার্মেন্ট খাতে একের পর এক কারখানা বন্ধ হচ্ছে, হাজারো শ্রমিক চাকরি হারাচ্ছেন।
“আমরা সবাই মরে যাচ্ছি। আপনি কি এসব দেখেন না? যেখানে এয়ারপোর্টে আগুন লাগে, সেখানে বিদেশি ক্রেতারা কি অর্ডার দেবে? এই অঘটনের অদৃশ্য (intangible) ক্ষতি ভয়াবহ। আমাদের মুক্তি দিন, নির্বাচন দিন।”
বিটিএমএ সভাপতি আরও অভিযোগ করেন, পোশাক শিল্প দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস হলেও বর্তমান প্রশাসনের –
গাফিলতি ও অনিশ্চয়তায় ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। তার মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আমলাতান্ত্রিক দেরি শিল্পখাতে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউজ অ্যাসোসিয়েশন (বিজিবিএ) আয়োজিত ওই সভায় সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ দেশের পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
তারা সবাই একমত হন যে, বর্তমান অচলাবস্থা কাটাতে সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরি।
পোশাক খাত বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের অর্থনীতির ৮০ শতাংশ রপ্তানি আয় আসে এই শিল্প থেকে।
তাই এই খাতের স্থবিরতা দীর্ঘায়িত হলে তা কেবল কর্মসংস্থান নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
