বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে দুটি নয়- ধুবড়ি, কিশানগঞ্জ ও চোপড়ায় তিনটি নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে ভারত, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর রক্ষায়।
ঢাকা | নভেম্বর ২০২৫:
ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের খুব কাছেই—ধুবড়ি, কিশানগঞ্জ ও চোপড়ায়—তিনটি নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে।
ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি মূলত শিলিগুড়ি করিডর বা “চিকেনস নেক” অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
দেশটির সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, এই তিন ঘাঁটিই এখন পুরোপুরি কার্যকর এবং গোয়েন্দা নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবেই এগুলো নির্মিত হয়েছে।
কৌশলগত গুরুত্ব: ‘চিকেনস নেক’ কেন এত সংবেদনশীল?
চিকেনস নেক ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো—“সেভেন সিস্টার্স”—এর সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র সংযোগ পথ।
এর সবচেয়ে সরু অংশ মাত্র ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত, যার একপাশে বাংলাদেশ এবং অন্যপাশে নেপাল।
এ অঞ্চলকে ঘিরে রয়েছে ভুটান ও চীনের সীমান্তও, ফলে এটি ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক করিডর হিসেবে বিবেচিত হয়।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৩৩তম কোর বা ত্রিশক্তি কোর এই করিডরের নিরাপত্তা তদারকি করে।
ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ঘাঁটিগুলোর ফলে সেনাদের চলাচল, লজিস্টিকস এবং গোয়েন্দা তথ্য সমন্বয়ে “তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া” সক্ষমতা বাড়বে।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান-চীন ঘনিষ্ঠতা: ভারতের উদ্বেগ
ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, ভারতের এই সামরিক প্রস্তুতির সময়েই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল সাহির শামসাদ মির্জার বৈঠকের খবর প্রকাশ পায়।
ভারতীয় গোয়েন্দারা মনে করছেন, ঢাকা-ইসলামাবাদ ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়া ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় নিরাপত্তা ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI)–এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ভারতের দৃষ্টিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য “চ্যালেঞ্জ” হয়ে উঠছে।
বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ও নতুন সক্ষমতা
ভারত ইতোমধ্যেই শিলিগুড়ি করিডর ঘিরে তিন স্তরের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করেছে—
রাশিয়ার এস–৪০০, ভারত–ইসরায়েল যৌথ MRSAM সিস্টেম, এবং দেশীয় আকাশ মিসাইল ইউনিট।
এছাড়া হাসিমারা ঘাঁটিতে রাফাল যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।
নতুন তিন সেনাঘাঁটির সংযোজনের ফলে এই অঞ্চলে ভারতের প্রতিরক্ষা অবস্থান হবে আরও সুসংহত ও আক্রমণাত্মক।
সার-সংক্ষেপ:
চিকেনস নেকে ভারতের সামরিক উপস্থিতি কেবল সীমান্ত নিরাপত্তা নয়—এটি মূলত চীন-পাকিস্তান-বাংলাদেশ অক্ষের সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক প্রভাব মোকাবিলার প্রস্তুতি।
শিলিগুড়ি করিডর রক্ষায় ভারতের এই ত্রিমাত্রিক প্রতিরক্ষা বলয় এখন পুরো দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যের কেন্দ্রে।
সূত্র ও রেফারেন্স লিংক:
- India Today Report (Nov 2025) – “India establishes three new military bases near Bangladesh border to protect Siliguri corridor.”
- Hindustan Times Defence Section – “Strategic fortification of Chicken’s Neck: India’s eastern command ready.”
- The Hindu Analysis – “Dhaka–Islamabad link worries Delhi amid Yunus regime diplomacy.”
