দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে আকাশছোঁয়া হারে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। সরবরাহ সংকট, আমদানিতে বিলম্ব ও সিন্ডিকেটের কারণে দামের এই লাগামহীন বৃদ্ধি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। কয়েক দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের কেজি ৮০ টাকার ঘর পেরিয়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। পাইকারি বাজারেও কেজিপ্রতি দাম ৯৫ থেকে ১০৫ টাকায় পৌঁছেছে। সাধারণ ভোক্তা থেকে শুরু করে খুচরা ব্যবসায়ী সবাই এই অস্থিরতায় পড়েছেন।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকার কারওয়ান বাজার, কাঁচাবাজার, খিলগাঁও ও জুরাইন মার্কেটে পেঁয়াজের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় এবং আমদানিতে বিলম্ব হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ভারত থেকে আমদানির অনুমতি বন্ধ থাকায় দেশীয় বাজারে সরবরাহ সংকট আরও প্রকট হয়েছে।
পাইকারি ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, “দুই সপ্তাহ আগেও পাইকারিতে দেশি পেঁয়াজ ছিল কেজি ৬৫–৭০ টাকা।
এখন তা ১০০ টাকায়ও পাওয়া যাচ্ছে না। ভারত থেকে আমদানি বন্ধ, তাই আমরা নিজেরাও বিপাকে।”
খুচরা বিক্রেতা জসিম উদ্দিন বলেন, “ভোক্তা এখন পেঁয়াজ কিনতে ভয় পাচ্ছে। প্রতিদিন দাম বাড়ছে, ক্রেতারা রেগে যাচ্ছে আমাদের ওপর।”
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, উৎপাদন ঘাটতি, আমদানিতে অনিশ্চয়তা এবং ব্যবসায়ীদের মজুতদারি—এই তিন কারণেই বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
প্রতি বছর নভেম্বর মাসে এই পরিস্থিতি দেখা দিলেও এবার দাম বৃদ্ধি গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হারে ঘটেছে।
একই সঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাজারে কোনো প্রকার কারসাজি
বা সিন্ডিকেট পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাজারে অভিযান চালানো হয়েছে।
তবে ভোক্তারা বলছেন, অভিযান নয়, প্রয়োজন স্থায়ী সমাধান। গৃহিণী রেহানা আক্তার বলেন,
“এখন রান্নায় পেঁয়াজ ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছি। এক কেজি পেঁয়াজ ১২০ টাকা—এটা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি।”
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি বছর একই সময়ে বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়া মানে পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে।
স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে এবং সংরক্ষণের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্যোগ না নিলে এই সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে।
এদিকে কৃষকরা জানিয়েছেন, ন্যায্য দাম না পাওয়ায় তারা পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলস্বরূপ, আগামী মৌসুমেও সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
