রপ্তানি খাত ধসে পড়ছে, ব্যাংকে ঋণ বন্ধ, শিল্পে স্থবিরতা। ইউনুস–ওয়াকার জুটির শাসনে বাংলাদেশ অর্থনীতি কীভাবে নৈরাজ্যের মুখে?
বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ গভীর সংকটে। টানা তিন মাস ধরে রপ্তানি আয় কমছে, ব্যাংক ঋণ প্রায় অচল, আর শিল্পখাত ভুগছে অভূতপূর্ব স্থবিরতায়। অথচ যারা গত জুলাইয়ে দেশকে আগুনে পুড়িয়ে ক্ষমতা দখল করেছিলেন—তথাকথিত অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান মুহাম্মদ ইউনুস ও সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান—তারা এখন ব্যস্ত নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ও বিদেশি প্রভুদের সন্তুষ্ট করতে।
রপ্তানি খাতের মরণদশা
অক্টোবরে রপ্তানি আয় কমেছে ৭.৫%, যা টানা তৃতীয় মাসের পতন। তৈরি পোশাক খাত—যা মোট রপ্তানির ৮০% জোগান দেয়—সেখানে পতন ৮.৪%।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এটিকে “অ্যালার্মিং” বলেছেন (সূত্র: Prothom Alo, Oct 2025)। কারখানা মালিকদের মতে, এখন ৮০% গার্মেন্টস লোকসানে চলছে, এবং বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার দিচ্ছেন না কারণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব।
জুলাই মাসে যখন দেশ অস্থির ছিল, তখনও রপ্তানি আয় ছিল ৩.৮২ বিলিয়ন ডলার।
অথচ “স্থিতিশীল” পরিবেশে অক্টোবরে সেই সংখ্যা অপরিবর্তিত—যা প্রমাণ করে অর্থনীতির চাকা থেমে গেছে।
ব্যাংক খাতের শ্মশান দৃশ্য
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৬.২৯%, যা দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন (সূত্র: BB Monthly Review, Sept 2025)।
ঋণপ্রবাহ থেমে যাওয়ায় উদ্যোক্তারা নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে পারছেন না। ব্যাংকগুলোও ঝুঁকি না নিয়ে সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করছে।
মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে ১১%, কাঁচামাল আমদানির এলসি নিষ্পত্তি কমেছে ১০.৫%।
রাইজিং ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেছেন—“ঋণখেলাপি হয়ে পড়েছি, ব্যাংকের সুদহার দ্বিগুণ হয়েছে, এখন ব্যবসা চালানো অসম্ভব।”
শিল্প ও বিনিয়োগে স্থবিরতা
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন—“দেশের শিল্প ও অর্থনীতি এখন আইসিইউতে।”
নতুন অর্ডার নেই, ক্রেতারা সতর্ক। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের চাপ সামনে—এই অবস্থায় সরকারের উদাসীনতা মারাত্মক সংকেত। (সূত্র: The Business Standard, Oct 2025)
অন্যদিকে, তথাকথিত অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রী ও সেনা কর্মকর্তারা বিদেশি দাতা সংস্থার প্রশিক্ষণ ও “ইনভেস্টমেন্ট কনফারেন্স”-এর নামে বিলাসবহুল ভ্রমণে ব্যস্ত।
এ যেন অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যেও এক অন্ধ উৎসব।
রাজনীতি বনাম অর্থনীতি
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউনুস–ওয়াকার জুটি মূলত রাজনৈতিক বৈধতার সংকট ঢাকতে অর্থনীতি থেকে মনোযোগ সরিয়ে রাখছে।
দেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, জঙ্গি তৎপরতা, ব্যবসায়ীদের ওপর হয়রানি—সব মিলিয়ে বিনিয়োগের পরিবেশ ভয়ংকর রকম অনিশ্চিত।
একজন সিনিয়র অর্থনীতিবিদ মন্তব্য করেছেন—
“অর্থনীতিতে এখন শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে আগে রাজনীতিতে বৈধতা ফিরতে হবে। অন্যথায় রপ্তানি, ব্যাংক ও বিনিয়োগ—সবকিছু ধ্বংসের পথে।”
(সূত্র: Dhaka Tribune, Nov 2025)
উপসংহার
বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এক মৃতপ্রায় শরীরের মতো—বাইরে শান্ত, ভেতরে নিঃশব্দ ধ্বংস।
চার মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নেমেছে ২৫% থেকে ২.২২%, যা প্রমাণ করে, ইউনুস–ওয়াকার শাসনে উৎপাদন ও বাণিজ্য দুই-ই অবরুদ্ধ।
এই অবস্থার একমাত্র সমাধান হলো—একটি বৈধ, নির্বাচিত সরকার ও নীতিনির্ধারণে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
অন্যথায়, দেশ আরও গভীর আর্থিক ও সামাজিক অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।
