ঢাকা মেট্রো রেলের বিড বাতিলের সিদ্ধান্তে জাইকার কড়া আপত্তি। দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রশাসনিক সংঘাত নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশের মেট্রো রেল প্রকল্প নিয়ে চলমান সহযোগিতায় নতুন এক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (JICA) সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (DMTCL) বিড বাতিলের প্রস্তাবে কোনোভাবেই সম্মতি দেবে না।
৯ নভেম্বর তারিখে DMTCL প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আফতাব হোসেন খান-এর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে
জাইকার সিনিয়র প্রতিনিধি ইয়োশিদা হিরোশি বলেন,
“আমরা CP-05 ও CP-02 কন্ট্রাক্টের বিড বাতিলের প্রস্তাবে হতাশ। জাইকা এই অনুরোধে কোনো সম্মতি দিতে পারবে না।”
বিড বাতিলের প্রস্তাব ও প্রেক্ষাপট
DMTCL সম্প্রতি দ্বিতীয় মেট্রো লাইন প্রকল্পের দুটি সেগমেন্ট — CP-05 ও CP-02 — এর বিড বাতিলের প্রস্তাব দেয়।
তাদের যুক্তি, নির্বাচিত বিডের মূল্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (DPP)-এ নির্ধারিত বাজেটের চেয়ে অনেক বেশি।
এই প্রস্তাব পাঠানো হয় নভেম্বরের ২ ও ৩ তারিখে।
কিন্তু জাইকার মতে, বিডগুলো ছিল টেকনিক্যালি গ্রহণযোগ্য, প্রতিযোগিতামূলক এবং বৈধভাবে মূল্যায়িত।
সংস্থাটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে,
বিডের প্রতিটি ধাপে — নথি অনুমোদন, টেকনিক্যাল মূল্যায়ন এবং মূল্য বিড অনুমোদন —
তারা ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক “concurrence” দিয়েছে।
চিঠিতে জাইকার কঠোর বার্তা
ইয়োশিদা হিরোশির চিঠিতে বলা হয়,
“বিড বাতিলের এই সিদ্ধান্ত জাইকা প্রোকিউরমেন্ট গাইডলাইনসের ধারা ৫.১০ লঙ্ঘন করবে,
যা ঋণচুক্তি অনুযায়ী আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক।”
চিঠিতে আরও বলা হয়, জাইকা CP-05 ও CP-02 কন্ট্রাক্টের খসড়া অনুমোদন দেয় যথাক্রমে ১২ মে ও ২১ মে ২০২৫-এ।
এর আগে মূল্যায়ন সংক্রান্ত অনুমোদনও দেওয়া হয়েছিল ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ (CP-05) এবং ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ (CP-02) তারিখে।
DMTCL ও জাইকার সম্পর্কের টানাপোড়েন
প্রকল্পটি মূলত ঢাকা শহরের জন্য MRT লাইন-২ তৈরির অংশ, যার আর্থিক সহযোগিতা দিচ্ছে জাইকা।
এর আগে ভারতীয় বহুজাতিক কোম্পানি লারসেন অ্যান্ড টুবরো (L&T) প্রথম মেট্রো লাইন-৬-এর একটি অংশ নির্মাণ করে।
তবে এই নতুন টেন্ডার বাতিলের প্রস্তাবের পর
জাইকা ও DMTCL-এর সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়,
বরং বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে বিদেশি আস্থা ও অর্থায়নের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও উদ্বেগ
যদি এই বিরোধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে চলমান MRT লাইন ১ ও ৫ প্রকল্পেও বিলম্ব হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন,
এই টানাপোড়েন বিদেশি দাতা সংস্থাগুলোর মধ্যে আস্থাহীনতা সৃষ্টি করতে পারে, যা বাংলাদেশের বড় প্রকল্পগুলোর অর্থায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
একজন পরিবহন বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেন—
“জাইকা ও DMTCL-এর এই দ্বন্দ্ব প্রশাসনিক দক্ষতার ঘাটতি ও দুর্বল সমন্বয়ের ইঙ্গিত দেয়।
এটি বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
উপসংহার
ঢাকা মেট্রো প্রকল্প নিয়ে জাইকা ও DMTCL-এর এই বিরোধ বাংলাদেশের অবকাঠামো কূটনীতির নতুন এক অধ্যায় উন্মোচন করেছে।
জাইকার অনড় অবস্থান ও আইনি যুক্তি ইঙ্গিত দিচ্ছে,
বিদেশি সহযোগী সংস্থাগুলো এখন প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতা নিয়ে আরও কড়া অবস্থান নিচ্ছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন,
আগামী দিনগুলোতে এই সংঘাতের সমাধান না হলে ঢাকার মেট্রো রেল প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন গতি থেমে যেতে পারে —যার সরাসরি প্রভাব পড়বে নগরবাসীর ওপর।
নিউজ রেফারেন্স
- Northeast News – JICA-DMTCL Conflict Report
- The Daily Star – Metro Rail Tender Updates
- JICA Bangladesh Official Statements
