ধানমন্ডি ৩২-এ মুক্তিযুদ্ধের বই হাতে এক নবম শ্রেণির ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ইউনুস সরকারের এই দমননীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
প্রতিবেদক: বিশেষ প্রতিনিধি
স্থান: ঢাকা | তারিখ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫
ঢাকার ঐতিহাসিক ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে আসা এক নবম শ্রেণির ছাত্রকে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত বই বহনের অভিযোগে আটক করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রশাসন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, ওই শিক্ষার্থীর ব্যাগে “বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু” নামে একটি বই ছিল। কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বইটি দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং পরে “সন্দেহজনক রাজনৈতিক কার্যকলাপের আশঙ্কায়” তাকে আটক করা হয়।
ছাত্রটির বয়স মাত্র ১৫ বছর। সে রাজধানীর একটি ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।


নিপীড়ন নাকি নিরাপত্তা? প্রশাসনের বিতর্কিত ভূমিকা
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর নিন্দার ঝড় উঠেছে।
নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে—
এটি জেনারেশন-জেড (Gen-Z) প্রজন্মের প্রতি ফ্যাসিস্ট দমননীতির প্রতিফলন।
একজন সুপ্রিম কোর্টের মানবাধিকার আইনজীবী, বলেন—
“একজন স্কুল শিক্ষার্থীর ব্যাগে মুক্তিযুদ্ধের বই পাওয়া কোনো অপরাধ হতে পারে না।
বরং এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকেও ভয় পায়।”
জেন-জেড প্রজন্মের বিরুদ্ধে দমন নীতি?
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে
“ইতিহাস জানতে চাওয়ার” প্রবণতা বাড়ছে।
কিন্তু প্রশাসনের কিছু পদক্ষেপে উদ্বেগ ছড়িয়েছে তরুণ সমাজে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন—
“এই প্রজন্ম ইতিহাসের সত্য জানতে চায়, তারা প্রশ্ন করে, পড়াশোনা করে, তথ্য যাচাই করে।
অথচ বর্তমান কর্তৃপক্ষ তাদের কণ্ঠরোধ করছে। এটা একধরনের ভয়—‘সচেতন তরুণ’কে ভয়।”
ইউনুস সরকারের ‘ফেসিজম’-এর প্রমাণ?
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই “ফ্যাসিস্ট প্রবণতা”র অভিযোগ উঠেছে।
বিরোধীদলীয় নেতারা বলছেন,
এই সরকার গণতন্ত্র ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে চরম দমননীতি চালু করেছে।
একজন ছাত্রনেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন—
“এটা প্রমাণ করে, ইউনুস সরকার ইতিহাস ভয় পায়।
মুক্তিযুদ্ধের সত্য জানলেই মানুষ বুঝবে, কারা দেশবিরোধী।”
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিক্রিয়া
দেশের বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে।
তাদের বক্তব্য—
“একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীকে কেবল ইতিহাসের বই বহনের জন্য আটক করা
মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন।”
জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী, শিক্ষা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা শিশুদের মৌলিক অধিকার।
এই ঘটনায় তা সরাসরি শিশু অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে ।
জনমতের প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক বার্তা
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে হ্যাশট্যাগ #FreeTheStudent এবং #SaveGenZBangladesh।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি
অনেক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারও প্রশাসনের এই আচরণের প্রতিবাদ জানিয়েছে।
তাদের বক্তব্য—
“যে শিশু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে চায়,
তাকে ভয় দেখিয়ে থামানো যাবে না।
বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে ইতিহাস পড়া কখনো অপরাধ নয়।”
ইতিহাসকে ভয় নয়, সম্মান দরকার
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সমাজে একটি গভীর প্রশ্ন উঠে এসেছে—
“আমরা কি এমন এক দেশে বাস করছি, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের বই পড়াও অপরাধ?”
একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের ভাষায়—
“ইউনুস সরকারের এই দমননীতি হয়তো সাময়িক শাসন টিকিয়ে রাখবে, কিন্তু ইতিহাস সবসময় সত্যের পাশে দাঁড়ায়।
আর আজকের সেই সত্য খুঁজছে ১৫ বছরের এক কিশোর।”
