জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মিজানুর রহমান সোহেলকে রাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগে ডিবি ও সরকারি উপদেষ্টার বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনায় নিন্দা ও উদ্বেগ বাড়ছে।
স্টাফ রিপোর্ট | তদন্ত ডেস্ক
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং দৈনিক ভোরের কাগজ অনলাইনের সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহেলকে বুধবার ভোরে রহস্যজনকভাবে তুলে নেওয়ার ১০ ঘণ্টা পর বাসায় ফিরিয়ে দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এ ঘটনায় ডিবির ভূমিকা ও সরকারের এক উপদেষ্টার প্রভাব–—উভয়ই নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে।
রাত ১২টায় বাসা থেকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া
মিজানুর রহমান সোহেল তার ফেসবুক পোস্টে জানান—
- রাত ১২টার পর ৫–৬ জন ডিবি সদস্য তার বাড়িতে প্রবেশ করেন
- দাবি করেন, “ডিবি প্রধান কথা বলতে চান”
- এরপর জোর করে তাকে গাড়িতে তুলে নেন
- নতুন বাজার-বাড্ডা থেকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়
ডিবি কার্যালয়ে তাকে—
- আসামির খাতায় নাম লিখিয়ে
- জুতা-বেল্ট খুলিয়ে গারদে রাখা হয়
কিন্তু তাকে কেন আটক করা হলো—এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর কেউ দিতে পারেনি, বলে দাবি করেন তিনি।
“উপদেষ্টার ইশারায় কাজ করেছে ডিবি”—গুরুতর অভিযোগ
প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের অভিযোগ করেন—
“অন্তর্বর্তী সরকারের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়বের ইশারায় সাংবাদিক সোহেলকে তুলে আনা হয়েছে।”
তিনি দাবি করেন, তৈয়ব নেদারল্যান্ডসের নাগরিক, এবং তার নাগরিকত্ব প্রমাণকারী তথ্যও প্রকাশ করেন ফেসবুকে।
এনইআইআর প্রকল্প: ৯ জন ব্যবসায়ীকে সুবিধা দিতে ‘২৫ হাজারকে পথে বসানোর চেষ্টা’
বুধবার ছিল ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার (NEIR) প্রকল্প বাতিলের দাবিতে মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীদের সংবাদ সম্মেলন, যেখানে সোহেল মিডিয়া পরামর্শক ছিলেন।
সোহেলের অভিযোগ—
- এই প্রকল্পে মাত্র ৯ জন ব্যবসায়ীকে মনোপলি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে
- তাদের একজন সরকারঘনিষ্ঠ একজন উপদেষ্টার “বাল্যবন্ধু”
- ২৫ হাজার সাধারণ ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবে
সোহেলের ভাষায়—
“প্রেস কনফারেন্স বন্ধ করাই ছিল ডিবির লক্ষ্য।”
ডিবি প্রধানের অস্পষ্ট ব্যাখ্যা
জুলকারনাইন সায়ের ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম এর সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি স্বীকার করেন—
- “সোহেল আমাদের হেফাজতে আছেন”
- “সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে”
কিন্তু প্রশ্ন করলে—
“রাত ১২টায় একজন সাংবাদিককে তুলে আনার প্রয়োজন কী ছিল?”
ডিবি প্রধান কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
সংবাদ সম্মেলন থামাতে ‘ভয় দেখানো’—এমন অভিযোগও
ব্যবসায়ী নেতারা বলেন—
- NEIR প্রকল্প নিয়ে সমালোচনামূলক সংবাদ ঠেকাতেই
- আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই
- এবং জনগণের সামনে প্রকল্পের অনিয়ম প্রকাশ রোধ করতেই
সোহেলকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে সোহেলের সহযোগী আবু সাঈদ পিয়াস এখনও ডিবি কার্যালয়ে বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া
সোহেলকে তুলে নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই—
- সাংবাদিক সমাজ
- ব্যবসায়ী সংগঠন
- সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারকারী
- মানবাধিকারকর্মী
—অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সোহেল মনে করেন—
“মানুষের প্রতিক্রিয়া না থাকলে হয়তো এত দ্রুত মুক্তি পেতাম না।”
