চিকিৎসারত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-কে গুলশানের এভারকেয়ার হাসপাতালে কেবিন থেকে সিসিইউতে নেওয়া হয়েছে; মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে আছেন।
২৩ নভেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যায়, হঠাৎ শারীরিক অবনতি হওয়ায় Evercare Hospital-এ (গোলশান, ঢাকা) ভর্তি হন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানিয়েছেন — মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা–নিরীক্ষার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
২৪ নভেম্বর হাসপাতালে বোর্ড রিপোর্ট পায়; সেই সময় জানা যায় খালেদা জিয়াকে “ছাতি/হৃদয় ও ফুসফুস সংক্রান্ত” সমস্যায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
২৬ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি কেবিনে ছিলেন এবং মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে রোগ পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা চলছিল।
- ২৭ নভেম্বর দুপুরে, খালেদা জিয়া’কে কেবিন থেকে Coronary Care Unit (সিসিইউ) তে স্থানান্তর করা হয়েছে।
- এই তথ্য দিয়েছে বিএনপি মিডিয়া সেল-এর সদস্য শায়রুল কবির খান।
- স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, কারণ তার শারীরে “হৃদয় ও ফুসফুস” উভয়ই জটিল অবস্থায় রয়েছে —
- ফলস্বরূপ, নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা প্রয়োজন।
- বর্তমানে, দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসা তদারকি করছে।
পুরনো স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বর্তমান জটিলতা
- খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরেই কিডনি, ফুসফুস, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, চোখ-লিভার-সহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।
- তার হৃদযন্ত্রে স্থায়ী পেসমেকার রয়েছে; পূর্বে স্টেন্টিংও করা হয়েছে।
- বোর্ড জানায় — ২৪ নভেম্বর তার ফুসফুস এবং হৃদয় উভয়ই সংক্রমণ (infection) আক্রান্ত হয়ে গিয়েছে, যা শ্বাসকষ্ট ও হৃৎসংক্রান্ত জটিলতা তৈরি করেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সঠিক চিকিৎসা না হলে ভয় থাকতে পারে।
পার্টি ও চিকিৎসা-দল–র প্রতিক্রিয়া
- বিএনপি মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে, সবাইকে খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া করার আবেদন করা হয়েছে।
- পরিবার এবং চিকিৎসকরা সবার কাছে ধৈর্য ও সহযোগিতা চেয়েছেন। বিশেষ করে, বর্তমান কঠিন অবস্থায় রোগীর সঙ্গে দোয়া-মাহফিলের আয়োজন হয়েছে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে।
- মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছে — এখনও রোগের উন্নতি বা সঙ্কট, কোন দিক থেকে এগোচ্ছে, সেটি বলা যাচ্ছে না; আগামী ২৪–৪৮ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগ ও বয়সজনিত জটিলতায় যুক্ত থাকা ৭৯ (বা ৮০) বছর বয়সি খালেদা জিয়ার হঠাৎ স্বাস্থ্যের অবনতি এবং হাসপাতালে ভর্তি — এখন একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপুর্ণ বিষয়। করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর দেখায়, চিকিৎসকেরা উদ্বিগ্ন এবং নিবিড় তত্ত্বাবধানে রেখেছেন।
বর্তমানে যা সবচেয়ে জরুরি —
- রোগীর যথাযথ ও দ্রুত চিকিৎসা,
- পরিবার, চিকিৎসক ও রোগীর প্রতি জনসাধারণের সমর্থন ও দোয়াটা,
- এবং রোগীর অবস্থা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরামর্শ, বিশ্রাম ও সুস্থতার জন্য সময়।
আমরা আশা করি — খালেদা জিয়া দ্রুত সুস্থ হন।
