৬০০ কোটি খরচেও শেখ হাসিনা বা আসাদুজ্জামান খান কামালকে ভারত থেকে আনা অসম্ভব—এক্সট্রাডিশন আইনের বাধা ও আন্তর্জাতিক আদালতের জটিলতা নিয়ে বিশ্লেষণ।
এক্সক্লুসিভ গোয়েন্দা-ভিত্তিক ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট;
অন্তবর্তীকালীন সরকারের গোপন পরিকল্পনা—ভারত থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অথবা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা—সম্পূর্ণভাবে ভেস্তে গেছে। ব্রিটিশ একটি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত আইনজীবীর নেতৃত্বে থাকা আইনি ফার্মকে গোপনে প্রায় ৬০০ কোটি টাকায় নিয়োগ করলেও ঢাকা কোনো আইনি পথ খুঁজে পায়নি।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক
২৯ নভেম্বর সকাল ৯:৫৫–১০:৫৫ মিনিটে মিন্টো রোডে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও রোহিঙ্গা হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান–এর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত (CDA) ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন বৈঠক করেন।
বৈঠকটি ছিল—
- নিরাপত্তা পরিস্থিতি
- রোহিঙ্গা ইস্যু
- রাজনৈতিক উত্তেজনা
- সরকারের আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলা
এগুলো নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা।
এই বৈঠকের সময়ই সরকারের অভ্যন্তরীণ গোপন প্রচেষ্টার ব্যর্থতা আন্তর্জাতিক মহলে আরও স্পষ্ট হয়ে যায়।
৬০০ কোটি টাকার গোপন মিশন: কেন ব্যর্থ হলো?
সোর্স “মার্কস” জানায়—
অন্তবর্তীকালীন সরকার শেখ হাসিনা বা আসাদুজ্জামান খান কামালকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইংল্যান্ডের একটি আইনি ফার্মকে গোপনে বিশাল অঙ্ক দিয়ে নিয়োগ দেয়।
তারা ভারত–বাংলাদেশ এক্সট্রাডিশন চুক্তি বিশ্লেষণ করে জানায়— ভারতের পক্ষে হাসিনাকে ফেরানো আইনসম্মত নয়।
ফার্মটি স্পষ্ট করে জানায়—
ধারা ৬: রাজনৈতিক অপরাধে প্রত্যর্পণ বাধ্যতামূলক নয়
যদি অভিযোগ “রাজনৈতিক প্রকৃতির” হয়—
- সরকারবিরোধী অভিযোগ
- আন্দোলন
- প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত
তাহলে ভারত আইনগতভাবে প্রত্যর্পণ নাকচ করতে পারে।
ধারা ৮: মৃত্যুদণ্ড বা ফৌজদারি অভিযোগে ভারত সিদ্ধান্ত নেবে
এতে দ্বিতীয় রাষ্ট্র সম্পূর্ণ স্বাধীন। অর্থাৎ বাংলাদেশ চাইলে হলেও ভারত না বললে কিছুই করার নেই।
ফার্মের রিপোর্ট:
➡ “শেখ হাসিনা বা কামাল সাহেবকে ফেরানো অসম্ভব।”
➡ “কোনো আন্তর্জাতিক বন্দী বিনিময় চুক্তিও এতে কার্যকর নয়।
ICJ–এ মামলা করতে গিয়ে নতুন বিপত্তি
বৃহস্পতিবার আইন ফার্মটি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (ICJ)-এ মামলা করার চেষ্টা করে।
কিন্তু সেখানে দেখা যায়— আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে ICJ–এ ইউনুস সরকার ও ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
অভিযোগগুলো—
- শত শত মানুষ হত্যা
- ধর্ষণ
- ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া
- দেশত্যাগে বাধ্য করা
- ৫ আগস্ট–পরবর্তী সহিংসতা
ICJ–এর নিয়ম অনুযায়ী, পাল্টা মামলা করার সুযোগ সীমিত এবং আগের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নতুন অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়।
ICJ–এর প্রধান ইউজি ইওয়াসাওয়া স্পষ্ট জানিয়ে দেন—“আগের মামলা নিষ্পত্তি না হলে পাল্টা মামলা কার্যত গ্রহণযোগ্য নয়।”
সরকারের জন্য রইলো মাত্র দুই পথ—মানহানি মামলা করে অভিযোগ তোলা না হয় বিদ্যমান মামলাকে চ্যালেঞ্জ করা, কিন্তু দুটো পথই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল।
বাস্তবতা: ভারত কাউকেই দেবে না
গোয়েন্দা সূত্র “মার্কস”–এর চূড়ান্ত মন্তব্য—
“যতই চেষ্টা করুন, ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে না।
বাংলাদেশে ফিরবেন কিনা—এ সিদ্ধান্ত একমাত্র তিনিই নেবেন।”
ভারত এখন—আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক, জনমতের প্রতিক্রিয়া, আন্তর্জাতিক চাপ-এসব বিবেচনা করে কোনোভাবেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হস্তান্তর করবে না।
এটি দিল্লির প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য স্টেট–পজিশন।
সার-সংক্ষেপ
অন্তবর্তীকালীন সরকারের গোপন “এক্সট্রাডিশন মিশন” ব্যর্থ।
৬০০ কোটি টাকা হাওয়ায় মিলেছে।
আইন–বিচার, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, কূটনীতি—সবমিলিয়ে আজকের বাস্তবতা একটাই—
➡ শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের কোনও নেতাকে ভারত থেকে ফেরানো অসম্ভব।
➡ তারা ফিরবেন একমাত্র নিজেদের সিদ্ধান্তে, সরকারের চাপে নয়।
