ভারতের ১৪,০০০ বর্গকিমি নো-ফ্লাই জোন, সিলিগুড়ি করিডোরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা, সীমান্তে উত্তেজনা। ‘অপারেশন সিন্দূর ২.০’ যেকোনো সময় শুরু হতে পারে।
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা বলয়ে কয়েকদিন ধরে এক অস্বাভাবিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সিলিগুড়ির গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেন নেক’ করিডোর থেকে বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রসীমা—সর্বত্রই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, নজরদারি বাড়ানো এবং সামরিক মোতায়েনের দৃশ্য স্পষ্ট। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত এখন এক বহুমাত্রিক হুমকির মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রতিরক্ষা অবস্থানে আছে এবং যে কোনো সময় “অপারেশন সিন্দূর ২.০” শুরু হতে পারে।
সিন্ধুনিয়ে রাজনাথ সিংয়ের ইঙ্গিত:
সাম্প্রতিক এক ভাষণে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং একটি কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন—
“সিন্ধু ভারতের অংশ হতে পারে, সীমান্ত বদল হতে পারে— দেশবাসী প্রস্তুত থাকুন।”
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি নিছক রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; বরং এক আসন্ন বড়সড় সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত।
সিলিগুড়ি করিডোরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা
উত্তর-পূর্ব ভারতের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত সিলিগুড়ির চিকেন নেক একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা। মাল্টি-এজেন্সি বৈঠকের পর ভারতের সেনাবাহিনী, বিএসএফ, আইটিবিপি, নিরাপত্তা সংস্থা ও রাজ্য পুলিশ করিডোরটিকে কার্যত সিল করে দিয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্র বলছে—
“নির্দিষ্ট হুমকির তথ্য পাওয়ার পরই এলাকা পুরোপুরি কঠোর নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে।”
বঙ্গোপসাগরে ১৪,০০০ বর্গকিমি জুড়ে নো-ফ্লাই জোন
সবচেয়ে নজরকাড়া পদক্ষেপ হলো বঙ্গোপসাগরে জারি করা বিশাল ‘No-Fly Zone’। আন্দামান–নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ থেকে বিশাখাপত্তনম পর্যন্ত প্রায় ১৪,০০০ বর্গকিমি এলাকা NOTAM জোন ঘোষণা করা হয়েছে।
এত বড় নো-ফ্লাই জোন সাধারণত হয়—
- স্ট্র্যাটেজিক মিসাইল টেস্ট
- সাবমেরিন-ভিত্তিক ব্যালিস্টিক অস্ত্র পরীক্ষা
- নৌবাহিনীর বিশেষ মহড়া
ভারতের প্রতিরক্ষা সূত্র জানাচ্ছে,
K-4 বা K-5 সাবমেরিন লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইলের টেস্ট হতে পারে।
এটি সফল হলে পাকিস্তান তো বটেই, চীনের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডও ভারতের আঘাত-সীমার মধ্যে পড়ে যাবে।
দুই সীমান্তে চাপে ভারত
পশ্চিম সীমান্ত— পাকিস্তানের নতুন কৌশল
বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে—
- পাকিস্তান ৬০–৭২টি জঙ্গি লঞ্চপ্যাড সীমান্ত থেকে সরিয়ে দেশের ভেতরে নিয়েছে
- ড্রোন হামলার নতুন পরিকল্পনা করছে
- সীমান্তে অস্বাভাবিক নড়াচড়া বাড়ছে
পূর্ব সীমান্ত— বাংলাদেশের অস্থিরতা ও চীনা ছায়া
ভারতের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে—
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা
- লালমনিরহাট এয়ারবেসে চীনা SY-400 মিসাইল মোতায়েনের খবর
- ভারত মহাসাগরে চীনা গবেষণা জাহাজের সন্দেহজনক গতিবিধি
ভারতের গোয়েন্দারা মনে করছেন—
এই জাহাজগুলো আদতে সামরিক নজরদারি চালায়, যা ভারতীয় নৌবাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হয়।
ভারত: রক্ষণাত্মক থেকে আক্রমণাত্মক ভূমিকায়
স্থল, জল, আকাশ— তিন ক্ষেত্রেই ভারত এখন সমন্বিত সামরিক প্রস্তুতির শিখরে। বিশ্লেষকদের মতে—
“ভারত আর প্রতিরক্ষামূলক মানসিকতায় নেই। এবার যে কোনো প্ররোচনার তাৎক্ষণিক ও আক্রমণাত্মক জবাব দিতে প্রস্তুত।”
রেফারেন্স / নিউজ সোর্স
- ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রেস ব্রিফিং — [Source Link]
- NOTAM জারি সংক্রান্ত নৌবাহিনীর বিজ্ঞপ্তি — [Source Link]
- BSF ও গোয়েন্দা সংস্থার সীমান্ত রিপোর্ট — [Source Link]
