তারেক রহমান ১৯৭১ সালের হত্যাকাণ্ড ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর সমালোচনা করেন। দুর্নীতি দমন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকারও করেন।
তারেক রহমানের ৭১-সংক্রান্ত মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ বৃদ্ধি
বিজয়ের মাসে বিএনপির আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান করেন। রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
১৯৭১ সালের হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের অভিযোগ
তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে যেসব রাজনৈতিক দল নিজেদের নতুনভাবে দেখার আহ্বান জানাচ্ছে, জনগণ তাদের ১৯৭১ সালেই দেখেছে। তাঁর ভাষায়—
“’৭১-এ কোনো কোনো গোষ্ঠী নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে লাখ লাখ মানুষ হত্যা করেছে এবং মা-বোনদের ইজ্জত লুট করেছে। জনগণ তাদের প্রকৃত মুখ বহু আগেই দেখেছে।”
তিনি মনে করিয়ে দেন যে এই দেশের স্বাধীনতার জন্য লাখো শহীদ প্রাণ দিয়েছেন এবং স্বাধীন দেশ গড়ার দায়িত্ব সবার কাঁধে।
তাঁর মতে, অতীতের ইতিহাস ভুলে গেলে রাজনৈতিক প্রতারণা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।
দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি
নিজের বক্তব্যে তিনি দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, দেশে “অরাজকতা” বিরাজ করছে এবং যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা এখন সময়ের দাবি।
তিনি বলেন—
“ভবিষ্যতে জনগণের ভোটে ক্ষমতায় গেলে বিএনপি দুর্নীতি দমনে কঠোর ভূমিকা রাখবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মৌলিক পরিবর্তন ঘটাবে।”
তারেক রহমান আরও বলেন, সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে, এবং এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপিকে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন চালাতে হবে।
বেহেশতের টিকিট প্রসঙ্গ ও ধর্মীয় ব্যাখ্যা
রাজনীতিতে ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করার সমালোচনা করে তিনি বলেন—
“কিছু ব্যক্তি জান্নাত-বেহেশতের টিকিট বিক্রি করছে—এটি শিরক। আল্লাহর হাতে যে বিষয়, তা রাজনীতির হাতিয়ার বানানো বিপজ্জনক।”
তিনি নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন জনগণের ঘরে ঘরে গিয়ে বুঝিয়ে বলতে যে এসব প্রতিশ্রুতি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ভুল এবং বিভ্রান্তিকর।
স্বনির্ভর বাংলাদেশের পরিকল্পনা
তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে বিএনপি দেশকে মালয়েশিয়া বা কানাডার মতো বানানোর প্রতিশ্রুতি দেয় না;
বরং তারা স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে।
তাঁর দাবি, বিএনপি সরকারে গেলে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কার্যকর সংস্কার আনা হবে।
উপস্থিত নেতাদের বক্তব্য
সভার পরিচালনা করেন হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। উপস্থিত ছিলেন নিপুণ রায় চৌধুরী, আমিনুল হক, মওদুদ হোসেন
আলমগীর পাভেল, শায়রুল কবির খানসহ ঢাকা জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন নেতারা।
