বিজয়ের মাসে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিনাকী ভট্টাচার্য ও ইলিয়াসের কুশপুত্তলিকা দাহ। গুজববাজদের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ছাত্রসমাজ।
ঢাকা, ১০ ডিসেম্বর: বিজয়ের এই পবিত্র মাসে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং দেশের ঐতিহ্য নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর মন্তব্য করার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উত্তাল। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে আজ পলাতক দুই ইউটিউব কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ডা. পিনাকী ভট্টাচার্য ও ইলিয়াস হোসেনের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দেশপ্রেমিক শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, এই দুই ব্যক্তি দীর্ঘ দিন ধরে গুজব ছড়িয়ে, ধর্মপ্রাণ মানুষের সেন্টিমেন্টকে পুঁজি করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।
তারা বিপুল অর্থ কামাচ্ছেন এবং পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন।
কুৎসা ও গুজবের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের জাগরণ
আন্দোলনকারীরা পিনাকী ভট্টাচার্যকে ‘স্ববিরোধী পাকি দালাল’ এবং ইলিয়াস হোসেনকে ‘হলুদ সাংবাদিকের পুত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
তাদের অভিযোগ, এই দুই অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আঘাত করছেন।
ছাত্রসমাজ বলেছে, গত ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের সময় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরসহ মুক্তিযুদ্ধের স্থাপনা ধ্বংসের মতো অপকর্মের পেছনে এই দুই ‘দেশের শত্রুদের’ উস্কানি ছিল প্রধান।
ধর্মীয় সেন্টিমেন্টের ব্যবহার ও অর্থ উপার্জন
প্রতিবাদকারীরা জোর দিয়ে বলেছেন, এই গুজববাজরা বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে ভিডিও তৈরি করে।
তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশে উস্কানি ছড়িয়ে ধান্দাবাজি করা এবং রাজনৈতিক দলের দালালী।
শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এই দুই ব্যক্তি ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে কিছু জঙ্গি ও মৌলবাদী ছাত্রের ব্যবহার করে দেশকে জাহান্নামে পরিণত করার চেষ্টা করেছিল।
সত্যের জয় ও প্রকৃতির প্রতিশোধ
আন্দোলনকারী ছাত্রসমাজ আজকের এই প্রতিবাদকে প্রকৃতির প্রতিশোধ হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, “সত্য আগুন যা মাটি দিয়ে চাপা রাখা যায় না।”
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এই ছাত্রসমাজের জাগরণকে দেশের জনগণ স্বাগত জানাচ্ছে।
তারা মনে করছে, এই ছাত্র আন্দোলন দেশের স্বাধীনতা বিরোধীদের মূল উৎপাটন করে বাংলাদেশকে আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দিকে ধাবিত করবে।
এই দুই ব্যক্তির কর্মকাণ্ড এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদ নিয়ে বাংলাদেশের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মিডিয়াও বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিটির ওপর নজর রাখছে।
