বিজয় দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে এসে ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী শেখ শিমনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বিজয় দিবসে স্মৃতিসৌধে গ্রেফতার
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল ফুল দিতে এসে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের এক সাবেক কর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। গ্রেফতার হওয়া ওই যুবকের নাম শেখ শিমন (২১)। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধ চত্বরে সন্দেহজনক ঘোরাফেরার সময় তাকে আটক করে পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন।
কোথা থেকে ও কখন গ্রেফতার
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকালে স্মৃতিসৌধের ভেতরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় শেখ শিমনের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে পরিচয় যাচাই-বাছাইয়ের একপর্যায়ে তার রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়টি সামনে আসে।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় স্মৃতিসৌধ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহমুদুল হাসান। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের এক সদস্য গ্রেফতার
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত শেখ শিমন সাভারের আশুলিয়ার পাবনারটেক ক্লাব এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার আব্দুল আলিম শেখের ছেলে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি ছাত্রলীগের আশুলিয়া কমিটির সাবেক সদস্য ছিলেন।
পুলিশের দাবি, তিনি বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বেদীতে ফুল দেওয়ার উদ্দেশ্যেই স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করেছিলেন।
আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর
গ্রেফতারের পর শেখ শিমনকে আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। তবে তাকে কোন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহমুদুল হাসান জানান,
“আজ মামলা দায়েরের পর তাকে আদালতে পাঠানো হবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আরও কয়েকজনের খোঁজে পুলিশ
পুলিশ আরও জানায়, শেখ শিমনের সঙ্গে আরও কয়েকজন ব্যক্তি একসঙ্গে জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করেছিলেন।
তবে তাদের মধ্যে শুধু শিমনকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের পরিচয় শনাক্ত ও অবস্থান জানতে পুলিশ কাজ করছে।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে স্মৃতিসৌধ এলাকায় বাড়তি নজরদারি থাকায় সন্দেহজনক চলাফেরার বিষয়টি দ্রুত নজরে আসে।
নিরাপত্তা জোরদার স্মৃতিসৌধ এলাকায়
বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো সদস্য বা সমর্থকের উপস্থিতি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ বলছে, এ ধরনের ঘটনার মাধ্যমে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আইনগত প্রক্রিয়া চলমান
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার ধারা ও অভিযোগ নির্ধারণের পর শেখ শিমনকে আদালতে হাজির করা হবে। তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
