শহীদ ওসমান হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। শাহবাগে গণজমায়েতের আহ্বান সংগঠনটির।
হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকলকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) ওসমান হাদির জানাজা শুরুর আগ মুহূর্তে পরিবারের পক্ষ থেকে এই আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন সংগঠনটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।
তিনি বলেন, এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এখনো হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি, যা রাষ্ট্রের দায়িত্বহীনতারই প্রমাণ। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদাবক্স চৌধুরীকে জানাতে হবে—এই এক সপ্তাহে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শাহবাগে জনসমাবেশের আহ্বান
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জানাজা ও দাফন শেষে জনসাধারণকে শাহবাগে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটির মুখপাত্র শহীদ শরিফ বলেন, এই সমাবেশ হবে শান্তিপূর্ণ এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে।
তবে কোনো ধরনের সহিংস কর্মসূচিতে সাড়া না দেওয়ার জন্যও আহ্বান জানান আবদুল্লাহ আল জাবের।
তিনি বলেন, “ইনকিলাব মঞ্চ থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেটাই সবাইকে অনুসরণ করতে হবে।”
জানাজায় রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত ওসমান হাদির জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জানাজায় প্রথমে বক্তব্য রাখেন ধর্ম উপদেষ্টা। এরপর বক্তব্য দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।
পরে প্রধান উপদেষ্টা বক্তব্য রাখেন এবং সর্বশেষ বক্তব্য দেন শহীদ ওসমান হাদির বড় ভাই। তিনিই জানাজার নামাজে ইমামতি করেন।
শেষ বিদায়ে মানুষের ঢল
ভোর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল এবং জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের ঢল নামে।
অনেকে চোখের জলে প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো দেখতে আসেন। শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমান হাদির মরদেহ
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়। পরে গোসলের জন্য মরদেহ নেওয়া হয় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে।
রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ওসমান হাদির মৃত্যুতে শনিবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন।
যেভাবে প্রাণ হারান ওসমান হাদি
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে দুর্বৃত্তের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তার অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অবস্থার অবনতি হলে গত ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ওসমান হাদির মৃত্যু শুধু একটি পরিবার নয়,
পুরো জাতিকে নাড়া দিয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম এখন সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা।
হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করা না হলে জনআন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
