জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শহীদ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৫ আগস্ট থেকে চলমান নাগরিক হত্যার বিচার দাবি উঠেছে।
লাখো মানুষের ঢলে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হলো শহীদ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা। তার আপন ভাইয়ের ইমামতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লাখো মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জানাজার আগে থেকেই সংসদ ভবন এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিদের উপস্থিতি
শহীদ ওসমান হাদির জানাজায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, ভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা।
এছাড়াও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, মানবাধিকার কর্মী ও ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
সময়সূচি পরিবর্তন ও নিরাপত্তা নির্দেশনা
এর আগে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে শুক্রবার জানানো হয়, শনিবার দুপুর ২টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
পরে সময় পরিবর্তন করে জানাজা দুপুর আড়াইটায় অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রেস উইং থেকে আরও জানানো হয়,
জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের কোনো ধরনের ব্যাগ বা ভারী বস্তু বহন না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়।
পাশাপাশি নিরাপত্তাজনিত কারণে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
৫ আগস্ট থেকে চলমান নাগরিক হত্যার বিচার দাবি
জানাজা শেষে উপস্থিত জনতার পক্ষ থেকে ৫ আগস্ট থেকে আজ পর্যন্ত সংঘটিত সকল নাগরিক হত্যার বিচার দাবি করা হয়।
বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে দ্রুত বিচার এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, “শহীদ ওসমান হাদি একা নন, তিনি ন্যায়বিচারের প্রতীক।”
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা পৃথক বিবৃতিতে বলেন, নিরপরাধ নাগরিক হত্যার বিচার নিশ্চিত না হলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোও একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানায়।
শান্তিপূর্ণভাবে জানাজা সম্পন্ন
সার্বিকভাবে কঠোর নিরাপত্তা ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় জানাজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
শহীদ ওসমান হাদির জানাজা শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি পরিণত হয় ন্যায়বিচারের গণদাবিতে।
লাখো মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে—নাগরিক হত্যার বিচার এখন সময়ের দাবি।
