তারেক রহমানের জন্য নির্ধারিত বিমানের লন্ডন-ঢাকা ফ্লাইট থেকে ভিআইপি নিরাপত্তার স্বার্থে দুই কেবিন ক্রুকে অপসারণ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
ভিআইপি যাত্রা ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য নির্ধারিত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের লন্ডন-ঢাকা রুটের একটি নিয়মিত ফ্লাইট থেকে দুই কেবিন ক্রুকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ভিআইপি যাত্রীর নিরাপত্তা ও বিশেষ ব্যবস্থাপনার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আগাম নিরাপত্তা মূল্যায়নের অংশ হিসেবেই এ পরিবর্তন আনা হয়।
প্রত্যাহার হওয়া কেবিন ক্রুর পরিচয়
ফ্লাইটটি থেকে যাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তারা হলেন জুনিয়র পার্সার মো. সওগাতুল আলম সওগাত এবং ফ্লাইট স্টুয়ার্ডেস জিনিয়া ইসলাম। উভয়েই দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক রুটে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
সূত্র জানায়, এই সিদ্ধান্ত কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়; বরং নির্দিষ্ট একটি ভিআইপি ফ্লাইটের জন্য সাময়িক দায়িত্ব পরিবর্তন।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে আসে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার তথ্য
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ওই দুই কেবিন ক্রুর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে কিছু তথ্য উঠে আসে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তাদের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
এ ছাড়া তারা নিয়মিত সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সেলিমের ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্বে যুক্ত ছিলেন—এমন তথ্যও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানা গেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভিআইপি যাত্রীর নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা তুলে ধরা হয়।
বিকল্প ক্রু নিয়োগ
ফ্লাইট সার্ভিস বিভাগের পক্ষ থেকে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ওই ফ্লাইটে জুনিয়র পার্সার মোস্তফা এবং ফ্লাইট স্টুয়ার্ডেস আয়াতকে দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্লাইট পরিচালনায় কোনো ধরনের বিঘ্ন যাতে না ঘটে, সে জন্যই তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প ক্রু প্রস্তুত রাখা হয়।
আগেও ঘটেছে অনুরূপ সিদ্ধান্ত
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভিআইপি যাত্রার ক্ষেত্রে এ ধরনের আগাম নিরাপত্তা মূল্যায়ন নতুন নয়। চলতি বছরের ২ মে বিএনপি চেয়ারপারসন
খালেদা জিয়ার একটি ফ্লাইটেও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দুই কেবিন ক্রুকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
সে সময়ও নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
নিরাপত্তা বনাম পেশাগত নিরপেক্ষতা
বিশ্লেষকদের মতে, ভিআইপি ফ্লাইটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পেশাগত নিরপেক্ষতা ও কর্মীদের মর্যাদা রক্ষা করাও জরুরি।
বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি ও ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে নেওয়া হয় এবং এতে কোনো ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য থাকে না।
