ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।
নির্বাচনী মাঠে ফেরার ঘোষণা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও মুক্তিযোদ্ধা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। দীর্ঘদিন পর তাঁর এই ঘোষণা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে কালিহাতীর নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক অনানুষ্ঠানিক সভায় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান।
দ্বিধা কাটিয়ে সিদ্ধান্ত
আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, গত কয়েকদিন ধরে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন কি না—এ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলেন।
তবে কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের আগ্রহ এবং অনুরোধের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমি সবসময় জনগণের মতামত ও রায়কেই প্রাধান্য দিয়ে রাজনীতি করেছি।
এলাকার মানুষের আগ্রহ ও প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে আমি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত ভূমিকা
আবদুল লতিফ সিদ্দিকী মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে টাঙ্গাইল অঞ্চলের উন্নয়ন ও সংগঠনে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বলে মনে করেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাঁর অংশগ্রহণ এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
টাঙ্গাইল-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে এবার একাধিক দলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর মধ্যে—
- বিএনপির প্রার্থী: কেন্দ্রীয় সদস্য ও শিল্পপতি লুৎফর রহমান মতিন
- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী: জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক
- জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী
এছাড়া নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটো এবং ড্যাব নেতা অধ্যাপক ডা. শাহ আলম তালুকদার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ ভোটারদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাঁর অবস্থান এই আসনের ভোটের হিসাবকে জটিল করে তুলতে পারে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা
ঘোষণার সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে নির্বাচনী মাঠে দেখতে চাচ্ছিলেন। তাঁদের মতে, এলাকার উন্নয়ন ও রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় তাঁর অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল-৪ আসনে প্রার্থীদের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য বাড়ছে। সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ এই আসনের নির্বাচনকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
