আইন কি সবার জন্য সমান? দণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমানের ক্ষেত্রে একের পর এক আইন ভঙ্গ ও রাষ্ট্রীয় নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ করছে আইনশাসনকে।
সম্পাদকীয়
সংবিধান কি কেবল সাধারণ মানুষের জন্য?
বাংলাদেশের সংবিধান স্পষ্ট ভাষায় বলে—আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। কিন্তু বাস্তব চিত্র দেখলে মনে হয়, এই সমতা কেবল সাধারণ নাগরিকদের জন্যই প্রযোজ্য। প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জন্য যেন আলাদা নিয়ম, আলাদা আইন, এমনকি আলাদা রাষ্ট্রব্যবস্থাও কার্যকর।
তারেক রহমানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও তাকে ঘিরে রাষ্ট্রীয় আচরণ সেই বাস্তবতাকেই নগ্নভাবে সামনে এনে দিয়েছে।
আইন ভাঙা কি এখন রাজনৈতিক অধিকার?
নির্ধারিত টোল প্লাজায় টোল না দেওয়া—সাধারণ নাগরিকের জন্য এটি একটি সরাসরি দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ তারেক রহমানের ক্ষেত্রে এই আইন ভঙ্গ প্রকাশ্যে ঘটলেও কোনো ব্যবস্থা নেই, নেই কোনো ব্যাখ্যা।
প্রশ্ন হলো—আইন কি প্রয়োগ হবে অপরাধ দেখে, নাকি অপরাধীর পরিচয় দেখে?রাষ্ট্র যদি নিজেই আইন প্রয়োগে চোখ বন্ধ রাখে, তাহলে নাগরিকের কাছ থেকে আইন মানার নৈতিকতা কোথায় দাঁড়ায়?
নির্বাচনী আইন ভাঙা কি সবচেয়ে বড় সতর্ক সংকেত?
সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগটি এসেছে নির্বাচন ব্যবস্থা ঘিরে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত করা আইনত নিষিদ্ধ—
এটি নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব বিধানেই স্পষ্ট। অথচ অভিযোগ রয়েছে, তফসিল কার্যকর থাকার মধ্যেই তারেক রহমান ভোটার হয়েছেন।
আরও বিস্ময়কর বিষয়—দিনটি ছিল শনিবার, সরকারি ছুটি। তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—
- কোন কর্মকর্তা অফিস খুললেন?
- কার মৌখিক বা লিখিত নির্দেশে?
- নির্বাচন কমিশন কি চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না দেওয়া মানে নির্বাচন ব্যবস্থাকেই সন্দেহের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো।
দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েও অদৃশ্য দায়মুক্তি!
তারেক রহমান একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী— এটি কোনো রাজনৈতিক মতামত নয়, এটি আদালতের রায়। অথচ সেই বাস্তবতা উপেক্ষা করে যদি রাষ্ট্রীয় সুবিধা,
প্রশাসনিক সহযোগিতা ও আইনি ছাড় অব্যাহত থাকে, তবে তা সরাসরি আদালত ও সংবিধানের অবমাননা।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি selective justice—যেখানে আইন প্রয়োগ হয় পছন্দ অনুযায়ী, ন্যায়বিচার নয়।
আইনের ঊর্ধ্বে একজন, বিপদে পুরো রাষ্ট্র
অপরাধ ছোট বা বড় নয়—অপরাধ মানেই অপরাধ। কিন্তু যখন ছোট অপরাধকে রাজনৈতিক ক্ষমতার জোরে বৈধ করে দেওয়া হয়, তখন বড় অপরাধের পথ খুলে যায়। এই সংস্কৃতি শেষ পর্যন্ত কাউকে রক্ষা করে না—রাষ্ট্রকেই দুর্বল করে।
আজ যদি একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে থাকেন, আগামীকাল সেই নজির দেখিয়ে আরও দশজন একই দাবি তুলবে।
নীরবতা মানেই কি সম্মতি?
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—রাষ্ট্রের নীরবতা। কোনো ব্যাখ্যা নেই, নেই তদন্তের ঘোষণা, নেই দায় স্বীকার বা অস্বীকার। এই নীরবতা কি তাহলে সম্মতিরই আরেক নাম?
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রশ্ন তোলা অপরাধ নয়—বরং নীরবতাই সবচেয়ে বড় অপরাধ।
শেষ কথা: প্রশ্ন থেকেই যাবে
আজ জনমনের প্রশ্ন একটাই—
আইন কি সত্যিই সবার জন্য সমান?
নাকি তারেক রহমানের জন্য লেখা হয়েছে আলাদা আইন, আলাদা বিধি, আলাদা রাষ্ট্র?
এই প্রশ্নের জবাব যতদিন না স্পষ্টভাবে দেওয়া হবে, ততদিন আইনশাসনের দাবি কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
