পার্বত্য অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা সন্তু লারমার বিরুদ্ধে নতুন ভারতবিরোধী তৎপরতা ও আইএসআই সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে উদ্বিগ্ন ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনীতির পরিচিত মুখ সন্তু লারমা ও তার নেতৃত্বাধীন সংগঠন পিসিজেএসএস (সন্তু) নতুন করে ভারতবিরোধী তৎপরতায় জড়িয়ে পড়েছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে দলটির অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই তথ্য ভারতীয় নিরাপত্তা মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
গোপন বৈঠক ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি যোগাযোগের অভিযোগ
সন্তু লারমা ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ৯–১১ ডিসেম্বর সময়ে একটি ম্যারাথন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশ নেয় ডিজিএফআই/আইএসআই সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা, পিসিজেএসএস (সন্তু) নেতৃত্ব, আসামের একটি ভারতবিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠী, ARSA এবং কয়েকটি ইসলামপন্থী সংগঠনের প্রতিনিধি। এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল সীমান্ত অঞ্চল ব্যবহার করে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা তৈরির কৌশল নির্ধারণ।
সূত্রগুলো দাবি করছে, এই সমন্বয় বৈঠক বাংলাদেশের ভেতরেই আয়োজন করা হয় এবং এতে পার্বত্য অঞ্চলকে ট্রানজিট ও আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
আইএসআইয়ের অর্থায়ন ও ‘হ্যান্ডলার’ অভিযোগ
আরও বিস্ফোরক অভিযোগ হিসেবে বলা হচ্ছে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে সন্তু লারমার প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, কর্নেল রাজা মোহাম্মদ আলী আকবর আইএসআইয়ের পক্ষে সন্তু লারমার ‘হ্যান্ডলার’ হিসেবে কাজ করছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কক্সবাজারে অবস্থানরত UNHCR কর্মকর্তাদের মাধ্যম ব্যবহার করে আইএসআই সন্তু লারমার কাছে অর্থ পাঠাচ্ছে।
সেই অর্থ গ্রহণের জন্য সন্তু লারমা তার কেন্দ্রীয় কমিটির একজন যুব নেতাকে কক্সবাজারে নিয়োজিত রেখেছেন।
দলের ভেতরেই ফাঁস হওয়া তথ্য
বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো—এই সব তথ্য সন্তু লারমার নিজ দলের লোকজনই প্রকাশ করছে।
অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর ভাষ্য, তারা জানে যে বর্তমান পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত তাদের অনেককেই সন্তু লারমার পরিবারের সদস্যদের মতো ভারতে আশ্রয় নিতে হতে পারে।
ফলে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা ভেবেই তারা আগাম তথ্য ফাঁস করছে।
ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থার সতর্কতা
এই প্রেক্ষাপটেই সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যে দেখা যাচ্ছে যে পূর্ব সীমান্তে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো পুনরায় সংগঠিত হচ্ছে।
তিনি বলেন,
“প্রতিবেশী বাংলাদেশে চলমান অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে আইএসআই ও ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো ভারতে—বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে—সন্ত্রাসীদের ঢুকিয়ে দিয়ে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে।”
আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন হুমকি
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সংযোগস্থলকে ঘিরে এ ধরনের তৎপরতা বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য সমান ঝুঁকিপূর্ণ।
বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের এই সম্ভাব্য সমন্বয় দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
উপসংহার
সন্তু লারমার বিরুদ্ধে নতুন করে ওঠা ভারতবিরোধী তৎপরতা ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি যোগাযোগের অভিযোগ শুধু একটি রাজনৈতিক ইস্যু নয়,
বরং এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় সতর্ক সংকেত।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গোয়েন্দা সহযোগিতা ও সীমান্ত নজরদারি আরও জোরদার করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা
