সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুই মামলায় সেনা কর্মকর্তা মেজর সাদিকুল হক ও তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া তাহমিদ জাফরিনের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের পৃথক দুই মামলায় সেনা কর্মকর্তা মেজর সাদিকুল হক ও তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া তাহমিদ জাফরিনের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর ২০২৫) শুনানি শেষে ভিন্ন ভিন্ন মামলায় তাঁদের এই রিমান্ড আদেশ দেওয়া হয়।
ভাটারা থানার মামলায় মেজর সাদিকুল
রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় মেজর সাদিকুল হককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে
আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) গুলশান জোনের পরিদর্শক জেহাদ হোসেন।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আল-আমিন রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের পরিবর্তে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়,
গত ৮ জুলাই রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সংলগ্ন একটি কনভেনশন সেন্টারে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ একটি গোপন বৈঠকের আয়োজন করে।
সেখানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীসহ ৩০০ থেকে ৪০০ জন অংশ নেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বৈঠকে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয় এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করা হয়।
এই ঘটনায় গত ১৩ জুলাই ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশ। পরে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়,
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মেজর সাদিকুল হককে গত ১৭ জুলাই সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়।
গুলশান থানার মামলায় সুমাইয়া তাহমিদ জাফরিন
অন্যদিকে, রাজধানীর গুলশান থানার আরেকটি মামলায় মেজর সাদিকুলের স্ত্রী সুমাইয়া তাহমিদ জাফরিনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে পুলিশ।
এই মামলার শুনানি নেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাত। শুনানি শেষে আদালত তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২২ এপ্রিল গুলশান-১ এলাকায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে ৩০–৩৫ জনের একটি মিছিল বের করা হয়।
মিছিলে সরকারবিরোধী ও দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।
তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুমাইয়া ওই মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন এবং তিনি নিষিদ্ধ সংগঠনের অর্থ জোগানদাতা, পরামর্শদাতা ও নির্দেশদাতা হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ডিবির দাবি, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সক্রিয় সদস্য এবং সংগঠন পুনর্গঠনে জড়িত ছিলেন।
তদন্তে কী জানতে চাইছে পুলিশ
রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, গ্রেপ্তার অন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সেসব তথ্য যাচাই, নেপথ্যের অর্থের উৎস, নির্দেশদাতা ও সংগঠনের কাঠামো জানতে সাদিকুল ও সুমাইয়ার রিমান্ড প্রয়োজন।
