কারাগারে শফিকুল আলম বাবুর মৃত্যুকে অবহেলাজনিত হত্যা দাবি করে বিচার চেয়েছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। ঘটনাটি ঘিরে শোক ও প্রতিবাদ।

শোক ও প্রতিবাদের আবহে কলাপাড়ায় উত্তেজনা
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক ও ক্ষোভ। কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সাবেক সভাপতি, কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল আলম বাবু কারাগারে মারা যাওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
তাঁর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে শোকসভা, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং বিচার দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
কারাগারে মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ
দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, শফিকুল আলম বাবু কারাগারে অযত্ন ও অবহেলার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তারা এটিকে একটি “নির্মম ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড” বলে দাবি করেছেন। এ ঘটনায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একজন জনপ্রতিনিধি ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যুর বিষয়টি কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয় এবং এর পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
রাজনৈতিক জীবনে শফিকুল আলম বাবু
শফিকুল আলম বাবু কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একজন পরিচিত মুখ ছিলেন।
দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে “দলের অতন্দ্র প্রহরী” হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে নেতাকর্মীরা জানান।
পরবর্তীতে তিনি কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সর্বশেষ
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সহকর্মীরা।
বিচার দাবিতে ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মসূচি
ঘটনার পরপরই কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বিভিন্ন ইউনিট থেকে বিচার দাবিতে বিবৃতি দেওয়া হয়।
তারা দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়,
“শফিকুল আলম বাবুর মৃত্যু শুধু একজন ব্যক্তির মৃত্যু নয়, এটি গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য একটি অশনিসংকেত।”
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—কারাগারে একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতার মৃত্যু কীভাবে ঘটল এবং কেন যথাযথ চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত না হলে বিষয়টি আরও রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
শফিকুল আলম বাবুর মৃত্যু কলাপাড়া অঞ্চলের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বিচার দাবি এখন স্থানীয় গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় আলোচনায় আসছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
