কারওয়ান বাজারে মোবাইল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর এনইআইআর কার্যক্রমে অবৈধ হ্যান্ডসেট ব্লক তিন মাস স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
ব্যবসায়ী-পুলিশ সংঘর্ষের পর হ্যান্ডসেট ব্লক ৩ মাস স্থগিত
ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রতিবাদে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের পর অবৈধ হ্যান্ডসেট ব্লক কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এ ঘোষণা দেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
কারওয়ান বাজারে সংঘর্ষ ও অবরোধ
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)–এর ব্যানারে ব্যবসায়ীরা পরিবারসহ কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। তারা এনইআইআর চালু বন্ধ, গ্রেপ্তার ব্যবসায়ীদের মুক্তি এবং পুরোনো হ্যান্ডসেট আমদানির অনুমতির দাবিতে সড়কে বসে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে থাকেন।
এতে শাহবাগ-ফার্মগেট সড়ক ও পান্থপথ এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধের কারণে ওই এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
পুলিশের লাঠিচার্জ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া
পুলিশ বিক্ষোভকারীদের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানালেও ব্যবসায়ীরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সরে যেতে অস্বীকৃতি জানান। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি টিয়ার গ্যাসের শেল, সাউন্ড গ্রেনেড এবং জলকামান ব্যবহার করে। দুপুরের পর কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে, যা বিকেল ৪টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্যসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী আহত হন এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়।
পুলিশের বক্তব্য
তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, “রাস্তা অবরোধ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কিন্তু বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছোড়ে। জননিরাপত্তার স্বার্থে বলপ্রয়োগ করতে হয়েছে।”
সরকারের ঘোষণা: ৩ মাস হ্যান্ডসেট ব্লক নয়
সংঘর্ষের পর সন্ধ্যায় বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান,
আগামী তিন মাস অবৈধ হ্যান্ডসেট ব্লক করা হবে না। তিনি সকালে মোবাইল ব্যবসায়ীদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিটিআরসি ভবন পরিদর্শন করেন।
তিনি বলেন, এনইআইআর কার্যক্রমের মাধ্যমে অনিবন্ধিত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধ, আর্থিক প্রতারণা ও জালিয়াতি প্রতিরোধের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে শুল্ক কমানোর পরপরই বিটিআরসির মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য।
এনইআইআর নিয়ে বিটিআরসির অবস্থান
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পুরোনো হ্যান্ডসেট আমদানির সিদ্ধান্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। এনইআইআর চালুর পর প্রযুক্তিগত সমস্যা
—যেমন একাধিক আইএমইআই প্রদর্শন, ওটিপি পেতে বিলম্ব এবং তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ—পরিলক্ষিত হলেও সেগুলো ধাপে ধাপে সমাধান করা হচ্ছে।
ফিশিং ওয়েবসাইট নিয়ে সতর্কতা
এনইআইআরের নামে একাধিক ফিশিং ওয়েবসাইটের সন্ধান পাওয়ার কথাও জানিয়েছে বিটিআরসি। চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদুল হক বারী বলেন,
“এনইআইআর সাইটের আদলে তৈরি ভুয়া ওয়েবসাইট শনাক্ত করে বন্ধ করার কার্যক্রম চলছে। গ্রাহকদের সতর্ক থাকতে হবে।”
