ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতা বহাল রেখে এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামের রিট সরাসরি খারিজ করেছেন হাইকোর্ট।
বিস্তারিত রিপোর্ট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের করা রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। ফলে আসন্ন নির্বাচনে ভোটের মাঠে থাকছেন বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম।
হাইকোর্টের আদেশ
মঙ্গলবার (তারিখ অনুযায়ী) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালত রায়ে বলেন, প্রার্থিতা বাতিল বা অবৈধ ঘোষণার মতো কোনো আইনগত ত্রুটি বা গ্রহণযোগ্য কারণ রিট আবেদনে প্রতীয়মান হয়নি। ফলে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।
রিটের পটভূমি
এর আগে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
রিটে দাবি করা হয়, এম এ কাইয়ুমের মনোনয়নপত্র ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাইয়ে নির্বাচন কমিশন যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি।
বিশেষ করে তাঁর যোগ্যতা ও হলফনামা সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে আপত্তি তোলা হয়। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়,
এম এ কাইয়ুমের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে সব আইনগত শর্ত পূরণ হওয়ায় তাঁর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের অবস্থান
নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীরা আদালতকে জানান, প্রার্থিতা বাতিলের জন্য যে ধরনের গুরুতর অনিয়ম বা আইনভঙ্গ প্রয়োজন,
তা এই ক্ষেত্রে নেই। কমিশনের সিদ্ধান্ত সংবিধান ও নির্বাচন আইন অনুযায়ী গৃহীত হয়েছে বলে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।
হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের এই অবস্থানের সঙ্গে একমত পোষণ করে রিট আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ঢাকা-১১ আসনটি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন হিসেবে বিবেচিত। এখানে বিএনপি ও নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
নাহিদ ইসলামের রিট খারিজ হওয়ার মধ্য দিয়ে এই আসনে বিএনপির নির্বাচনী অবস্থান আরও শক্তিশালী হলো বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আদালতের এই রায় প্রমাণ করে যে, তাঁদের প্রার্থী আইনগতভাবে সম্পূর্ণ বৈধ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ টেকসই নয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য
আইন বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী প্রার্থিতা নিয়ে করা রিটে আদালত সাধারণত তখনই হস্তক্ষেপ করেন, যখন স্পষ্ট আইন লঙ্ঘন
বা নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতার অপব্যবহার প্রমাণিত হয়। এই মামলায় সে ধরনের উপাদান না থাকায় রিট খারিজ হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
সামনে কী
হাইকোর্টের আদেশের ফলে এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতা নিয়ে আইনগত জটিলতা আপাতত নিষ্পত্তি হলো।
এখন ঢাকা-১১ আসনে সব প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে পারবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনের লড়াই কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
