ঢাকার সাত সরকারি কলেজ নিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনে অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। উচ্চশিক্ষায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
অবশেষে রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থাপনায় নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের আইনি ভিত্তি তৈরি হলো। সরকার ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে। দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির পর এই অধ্যাদেশকে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
রবিবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গেজেট আকারে অধ্যাদেশটি প্রকাশ করে। এর মাধ্যমে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজকে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠিত হলো।
কলেজগুলোর স্বকীয়তা বজায় থাকবে
খসড়া অধ্যাদেশে সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে ভাগ করার প্রস্তাব থাকলেও চূড়ান্ত অধ্যাদেশে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কলেজগুলো তাদের নিজস্ব পরিচয় ও প্রশাসনিক কাঠামো বজায় রেখে একাডেমিকভাবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এতে করে কলেজগুলোর ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন থাকবে এবং একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের মানসম্মত শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে।
দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়ন
এই সাতটি কলেজ একসময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল। ২০১৭ সালে সেগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে একাডেমিক জটিলতা, সেশনজট এবং প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগ তুলতে থাকেন।
এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা আলাদা একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। বিভিন্ন সময় মানববন্ধন, স্মারকলিপি এবং অনশন কর্মসূচির মাধ্যমে তারা দাবি জানান।
এই অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে সেই দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হলো।
শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা জানান, এই সিদ্ধান্ত তাদের জন্য স্বস্তির। একজন শিক্ষার্থী বলেন,
“আমাদের শিক্ষাজীবনে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি ছিল প্রশাসনিক জটিলতা। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে আমরা দ্রুত একাডেমিক সিদ্ধান্ত ও গবেষণার সুযোগ পাব।”
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় রাজধানীর উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
কীভাবে পরিচালিত হবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নিজস্ব প্রশাসন, উপাচার্য, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিল থাকবে।
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান প্রণয়নের সুযোগও রাখা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, খুব শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো ও একাডেমিক রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারি দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি শুধু সাতটি কলেজের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ নয়,
বরং রাজধানীর উচ্চশিক্ষাকে আরও বিকেন্দ্রীকরণ ও গতিশীল করার একটি বড় পদক্ষেপ।
