আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিবাদ আখ্যা দিলেও ক্ষমতায় যেতে লীগের সমর্থক ভোটারদের কাছে তলানিতে নেমে ভোট চাইছে বিএনপি-জামায়াত।
এক মুখে ফ্যাসিবাদ, অন্য মুখে ভোট ভিক্ষা আওয়ামী লীগকে প্রকাশ্যে ‘ফ্যাসিবাদী শক্তি’ আখ্যা দেওয়া বিএনপি-জামায়াত জোটই এখন ক্ষমতায় যাওয়ার আশায় সেই আওয়ামী লীগের সমর্থক ও নিরপেক্ষ ভোটারদের দ্বারস্থ হচ্ছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই দ্বিচারিতা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা।
একদিকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদের অভিযোগ তুলে আগুনঝরা বক্তব্য, অন্যদিকে ভোটের হিসাব কষে সেই দলের ভোটব্যাংকেই আঘাত নয়—বরং তোষামোদ। বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার লোভ বিএনপি-জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে চরম আত্মবিরোধী অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে।
ফ্যাসিবাদের অভিযোগ: রাজনীতি না অপপ্রচার?
বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা নিয়মিতভাবে অভিযোগ করছেন,
আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রযন্ত্র দখল করে ‘ফ্যাসিবাদী শাসন’ কায়েম করেছে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন ব্যবস্থা—সবই নাকি সরকারের নিয়ন্ত্রণে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—যে দলকে তারা ফ্যাসিবাদী বলে গালি দিচ্ছে, সেই দলের সমর্থকদের কাছেই আবার কেন ভোট চাইছে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি আদর্শিক লড়াই নয়, বরং নিখাদ ক্ষমতার রাজনীতি।
আওয়ামী লীগের কড়া জবাব
আওয়ামী লীগ এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক ব্যর্থতার ফল বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দলটির শীর্ষ নেতারা বলছেন,
বিএনপি-জামায়াত দেউলিয়া হয়ে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য ছড়াচ্ছে।
আওয়ামী লীগের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা জনগণের ভোটেই ক্ষমতায় রয়েছে এবং সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করছে।
দলটির নেতারা আরও স্মরণ করিয়ে দেন—বিএনপি-জামায়াত যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন দেশ দেখেছে সহিংসতা, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদী শক্তির উত্থান।
“এই ইতিহাস জনগণ ভুলে যায়নি,”—এমন মন্তব্য আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার।
আক্রমণাত্মক ভাষা ছেড়ে নরম কৌশল
চরম বাস্তবতা বুঝে বিএনপি-জামায়াত এখন ভাষা বদলেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে,
আগের মতো সরাসরি আক্রমণাত্মক স্লোগান নয়—এখন তারা কথা বলছে জীবনযাত্রার ব্যয়, দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি স্পষ্টভাবে আওয়ামী লীগের সমর্থক ও নিরপেক্ষ ভোটারদের মন গলানোর কৌশল।
অর্থাৎ, যাকে প্রকাশ্যে ‘ফ্যাসিবাদ’ বলা হচ্ছে, গোপনে তার ভোটব্যাংকেই টার্গেট করা হচ্ছে।
মাঠে ও অনলাইনে মরিয়া প্রচেষ্টা
গ্রাম থেকে শহর—সবখানে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে নেমেছে।
তরুণ ভোটারদের ধরতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে লাগাতার প্রচারণা। উন্নয়ন বনাম ব্যর্থতার তুলনামূলক গল্প শোনানো হচ্ছে ভিডিও ও পোস্টে।
কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন—যাদের বিরুদ্ধে এত বছর ধরে বিষোদ্গার, সেই ভোটাররা কি হঠাৎ করেই বিশ্বাস করবে?
আদর্শ বনাম ক্ষমতার লড়াই
বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি-জামায়াত এখন আদর্শের রাজনীতি নয়, ক্ষমতার রাজনীতিতেই আটকে গেছে।
ফ্যাসিবাদের অভিযোগ মূলত চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার, আর ভোট চাওয়া নিছক ক্ষমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতার বার্তা দিয়ে ভোটারদের আস্থায় রাখতে চাইছে। রাজনীতির এই দ্বিচারিতা ভোটারদের চোখে স্পষ্ট।
একদিকে ‘ফ্যাসিবাদ’ বলে গলা ফাটানো, অন্যদিকে সেই ফ্যাসিবাদের ভোটব্যাংকে নতজানু—এই রাজনীতি কতটা বিশ্বাসযোগ্য, তার বিচার করবে জনগণই।
