জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সাংবাদিক আলী মামুদকে ঢাকা মেডিকেলে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরিবার ও সহকর্মীদের শোক।
রাজধানীতে সাংবাদিক সমাজে শোকের ছায়া
দৈনিক দিনকাল-এর সিটি এডিটর ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য সাংবাদিক আলী মামুদ (৭০) আর নেই। মঙ্গলবার (আজ) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের শৌচাগার থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় দেশের সাংবাদিক সমাজে নেমে এসেছে গভীর শোক। সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা জাতীয় প্রেসক্লাব ও হাসপাতালে ভিড় করেন।
যেভাবে উদ্ধার হন আলী মামুদ
জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য আলী মামুদকে সকালে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে না পেয়ে তাঁর পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে। পরে শৌচাগারে খোঁজ করলে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু বলেই ধারণা করা হচ্ছে, তবে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
পরিবারের বক্তব্য
আলী মামুদের স্ত্রী জেসমিন আরা জানান, সোমবার (গতকাল) বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তাঁর স্বামী বলেছিলেন, তিনি প্রথমে জাতীয় প্রেসক্লাবে যাবেন, এরপর নিজ কর্মস্থল দিনকাল অফিসে যাবেন। কিন্তু রাতে অনেক চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
দিবাগত রাত ১২টার পরও বাড়ি না ফেরায় তিনি দিনকাল অফিসে ফোন করেন। সেখানে জানতে পারেন, আলী মামুদ সেদিন অফিসে যাননি।
পরে আজ সকালে বড় ছেলেকে নিয়ে প্রেসক্লাবে খোঁজ করতে গিয়ে মর্মান্তিক এই দৃশ্যের মুখোমুখি হন।
শারীরিক অসুস্থতার ইতিহাস
জেসমিন আরা আরও জানান, আলী মামুদের আগে বাইপাস সার্জারি হয়েছিল। অতীতে তিনি দুবার শৌচাগারে পড়ে গিয়েছিলেন।
বিষয়টি নিয়ে তিনি সব সময় উদ্বিগ্ন থাকতেন। পরিবারের ধারণা, শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তাঁর মৃত্যু হতে পারে।
সন্তানের প্রতিক্রিয়া
আলী মামুদের বড় ছেলে আমির আবদুল্লাহ তানভীর বলেন, “চিকিৎসক আমাদের জানিয়েছেন, বাবাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। আমরা গভীর শোকে আছি।”
আলী মামুদ তিন সন্তানের জনক। তাঁর দুই ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এবং একমাত্র মেয়ে কলেজে পড়াশোনা করছেন।
সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শোক
আলী মামুদের মৃত্যুতে জাতীয় প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং বিএনপির মিডিয়া সেলের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তাঁরা বলেন, আলী মামুদ ছিলেন একজন অভিজ্ঞ ও নিষ্ঠাবান সাংবাদিক। তাঁর মৃত্যু সাংবাদিকতা অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
