গেজেট প্রকাশের পর সোম বা মঙ্গলবার নতুন সরকারের শপথ। সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীনের মাধ্যমে শপথ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
সোম বা মঙ্গলবার নতুন সরকারের শপথ সম্ভাবনা
নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের লক্ষ্যে এগোচ্ছে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে পারেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। সে ক্ষেত্রে আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে।
একই দিনে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও শপথ গ্রহণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গেজেট প্রকাশের পর প্রস্তুতি
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্র জানায়, নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের পর ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে। সেই সময়সীমা শেষ হলেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কারণে দুটি আসনের গেজেট প্রকাশ আপাতত স্থগিত রয়েছে। তবে বাকি আসনগুলোর গেজেট প্রকাশ দ্রুত সম্পন্ন হলে শপথ অনুষ্ঠানের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হতে পারে।
সাংবিধানিক জটিলতা ও বিকল্প পথ
সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর দায়িত্ব বিদায়ী স্পিকারের। বর্তমানে এ দায়িত্বে রয়েছেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। তবে তিনি পদত্যাগের পর থেকে প্রকাশ্যে না আসায় বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে স্পিকার শপথ না পড়ালে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে সিইসি এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন। বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু হত্যা মামলায় কারাগারে থাকায় বিকল্প সাংবিধানিক পথও জটিল হয়ে উঠেছে।
স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার কেউ দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত থাকলে স্পিকারের মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে শপথ নেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ বিষয়ে ঐকমত্যের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
সংবিধানের ১২৩(৩) অনুচ্ছেদ ও প্রেক্ষাপট
আইন বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন সংবিধানের ১২৩(৩) অনুচ্ছেদে নির্ধারিত সময়সীমার বাইরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের পর
সরকার পতন এবং ৬ আগস্ট সংসদ ভেঙে যাওয়ার প্রায় দেড় বছর পর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ফলে শপথের প্রক্রিয়াতেও
রাজনৈতিক বাস্তবতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।বিশ্লেষকদের ধারণা, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলগুলোর সম্মতির ভিত্তিতে দ্রুত শপথ আয়োজনের পথ তৈরি হতে পারে।
প্রয়োজনে তিন দিনের অপেক্ষা ছাড়াই রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।
নির্বাচনের ফলাফল ও সংখ্যাগরিষ্ঠতা
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয় এবং ২৯৭টির বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন
কমিশন। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। তাদের মিত্ররা পেয়েছে আরও তিনটি আসন।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে এবং তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিকরা পেয়েছে ৯টি আসন।
এই ফলাফলের ভিত্তিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতৃত্বেই নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
দ্রুত শপথ আয়োজন ও ক্ষমতা হস্তান্তর দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘ অন্তর্বর্তী সময়ের পর
একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা ন্যস্ত হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নীতিনির্ধারণে গতি আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
