ধানমণ্ডি ৩২-এ বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ঢাবি শিক্ষক আ ক ম জামাল উদ্দিন সহ আটজনকে আটক করেছে পুলিশ।

রাজধানীর ঐতিহাসিক ধানমণ্ডি ৩২ এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনসহ আটজনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল প্রায় পাঁচটার দিকে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান-এর ঐতিহাসিক বাসভবনে শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ বলছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে সংশ্লিষ্টদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়েছে কি না—তা নিশ্চিত করা হয়নি।
ফেসবুক ঘোষণা, এরপর সমাবেশ
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে অধ্যাপক জামাল উদ্দিন নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়ে বিকেল পাঁচটায় ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর ঘোষণা দেন। পোস্টে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান। সামাজিক মাধ্যমে পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়।
নির্ধারিত সময়ের কিছু আগে থেকেই সেখানে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল গড়াতেই এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের উপস্থিতি
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির সদস্য এম শাহজাদা। এছাড়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-এর কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী সেখানে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।
শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রস্তুতির সময় হঠাৎ করেই স্লোগান ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে।
উত্তেজনা, হট্টগোল ও আটক
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়।
একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা তাকে নিরাপত্তা বলয়ে নিয়ে যান। একই সময় ঘটনাস্থল থেকে আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়।
সব মিলিয়ে আটজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ সূত্র ধানমণ্ডি থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান,
“পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে আটজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও আলোচনা
ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা দাবি করেছেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন।
অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল তাদের প্রধান দায়িত্ব।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ধানমণ্ডি ৩২ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি স্থান। ফলে সেখানে যেকোনো কর্মসূচি ঘিরেই অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে প্রশাসনড
তদন্তের আভাস
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার সর্বশেষ আপডেট জানতে চোখ রাখুন আমাদের অনলাইন সংস্করণে।
