মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। সিলেট ও ঢাকায় নানা কর্মসূচির মাধ্যমে স্মরণ।
জেনারেল ওসমানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
আজ মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী–এর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ৬৫ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারসংলগ্ন গোরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে সিলেট ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
জন্ম ও শৈশব
১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন ওসমানী। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি মেধা ও নেতৃত্বগুণে উজ্জ্বল ছিলেন। ১৯৩৯ সালে ভূগোলে এমএ প্রথমপর্বে অধ্যয়নকালে তিনি ব্রিটিশ-ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৪০ সালের ৫ অক্টোবর দেরাদুন সামরিক একাডেমি থেকে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে কিং কমিশন লাভ করেন।
সামরিক জীবনে উত্থান
১৯৪১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পান এবং ১৯৪২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ আর্মির সর্বকনিষ্ঠ মেজর হিসেবে নজির স্থাপন করেন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে একটি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হয়ে তিনি অসাধারণ নেতৃত্বের পরিচয় দেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত মিয়ানমার (তৎকালীন বার্মা) রণাঙ্গনে যান্ত্রিক পরিবহন ইউনিটের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধ শেষে ১৯৪৫ সালে আইসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হন।
পাকিস্তান আমলে দায়িত্ব পালন
১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে যোগ দেন। ১৯৪৮ সালে কোয়েটা স্টাফ কলেজ থেকে পিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৫৫ সালে পাকিস্তান সেনাসদরের অপারেশন পরিদপ্তরে জেনারেল স্টাফ অফিসার হিসেবে নিয়োগ পান এবং ১৯৫৬ সালে কর্নেল পদে উন্নীত হন।
তিনি আন্তর্জাতিক সামরিক জোট সিয়াটো ও সেন্টোতে পাকিস্তান বাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে ডেপুটি ডাইরেক্টর অব মিলিটারি অপারেশনের দায়িত্ব পালন করেন দক্ষতার সঙ্গে। স্বাধীনচেতা বাঙালি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৬৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কর্নেল পদে অবসর গ্রহণ করেন।
রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব
১৯৭০ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এ যোগ দেন এবং জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তার দূরদর্শী নেতৃত্ব, কৌশলগত পরিকল্পনা ও সংগঠনের দক্ষতায় মুক্তিবাহিনী সুসংগঠিত রূপ লাভ করে।
বিভিন্ন সেক্টরে বিভক্ত করে যুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্ত ছিল তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।
তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সমন্বিত প্রতিরোধই শেষ পর্যন্ত স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয় নিশ্চিত করে।
স্বাধীনতার পর অবদান
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ওসমানী নবগঠিত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন
এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখেন। তার সততা, নৈতিক দৃঢ়তা ও দেশপ্রেম তাকে জাতীয় ইতিহাসে অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছে।
স্মরণে নানা কর্মসূচি
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেটের জন্মভূমিতে এবং ঢাকায় বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
বেলা ১১টায় রাওয়ার হেলমেট হলে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বক্তারা তার কর্মময় জীবন, দেশপ্রেম ও নেতৃত্বগুণের ওপর
আলোকপাত করবেন। জাতি আজ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে এই বীর সেনানায়ককে, যিনি স্বাধীনতার লাল সূর্য উদয়ে রেখেছিলেন অমলিন অবদান।
