প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জিয়া উদ্যানে বাবা-মায়ের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। পরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি সম্মান ও সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবস শুরু।
বাবা-মায়ের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
নতুন সরকার গঠনের পর দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কর্মদিবসে তারেক রহমান বাবা-মায়ের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি রাজধানীর জিয়া উদ্যান-এ যান এবং সেখানে বাবা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়া-এর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এ সময় সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা
এর আগে সকাল ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্মৃতিসৌধ-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সেখানে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। স্বাধীনতার চেতনা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। নতুন সরকারের পক্ষ থেকে এটি ছিল আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা প্রদর্শনের প্রথম কর্মসূচি।
শপথগ্রহণ ও নতুন মন্ত্রিসভা
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। একই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী
হিসেবে ৪৯ জন শপথ গ্রহণ করেন। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু করে।
সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবস
নতুন সরকার গঠনের পর বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
সেখানে তিনি প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করবেন এবং বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক।
প্রথম বৈঠকে সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস এবং উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের নীতিগত দিকনির্দেশনা এই বৈঠকের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
দায়িত্ব গ্রহণের পর পারিবারিক ও জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন রাজনৈতিক ও প্রতীকী দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ।
এটি একদিকে পারিবারিক ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, অন্যদিকে জাতীয় ইতিহাসের প্রতি অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।
নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এই কর্মসূচি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
সামনে সরকারের নীতি, সংস্কার ও উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের দিকে সবার নজর থাকবে।
