ঈদুল ফিতরের আগে ফ্যামিলি কার্ড চালু করতে দফায় দফায় বৈঠক। ৫০ লাখ পরিবারকে মাসে ২,৫০০ টাকা দিতে পরিকল্পনা।
ঈদের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর তৎপরতা
দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সক্রিয় হয়েছে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার। তারই অংশ হিসেবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প চালুর লক্ষ্যে দফায় দফায় বৈঠক করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের কাঠামো, অর্থসংস্থান ও উপকারভোগী বাছাই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে মন্ত্রী-সচিবদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এমনকি সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সরকারি কাজ তদারক করছেন প্রধানমন্ত্রী।
কারা থাকছেন বৈঠকে?
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট সচিবরা বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী বাছাইয়ে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলেও কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।
মাসে ২,৫০০ টাকা, লক্ষ্য ৫০ লাখ পরিবার
প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি উপকারভোগী পরিবারকে মাসে অন্তত ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে বলা হয়েছিল, পরিবারের কর্ত্রী বা গৃহকর্ত্রী সরাসরি এই সুবিধা পাবেন। বর্তমানে পণ্যের পরিবর্তে নগদ অর্থ প্রদানের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে হিসাব করা হয়েছে, মাসে ৫০ লাখ পরিবারকে ২,৫০০ টাকা দিলে বছরে সরকারের ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।
এই অর্থ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাজেট থেকেই সংস্থান করা সম্ভব বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
আইটি-ভিত্তিক ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা
প্রকল্প বাস্তবায়নে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ডেটাবেসের সঙ্গে সংযুক্ত করে গৃহকর্ত্রীদের একটি তালিকা তৈরি করা হবে।
উপকারভোগীদের মোবাইল নম্বর যুক্ত করে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে সরাসরি অর্থ পাঠানো হবে।
এতে মধ্যস্বত্বভোগী বা অনিয়মের সুযোগ কমবে বলে মনে করছে সরকার।
পাইলটিং ও যাচাইবাছাই কমিটি
ঈদের আগেই প্রকল্পের পাইলটিং শুরু করতে অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
দেশের আট বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রকল্প চালু করা হবে।
কমিটিকে ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি প্রাথমিক অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে।
পুরোনো ভাতা বহাল থাকবে
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড চালু হলেও বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর অন্যান্য ভাতা বহাল থাকবে।
নতুন সুবিধার কারণে কেউ পুরোনো ভাতা থেকে বঞ্চিত হবেন না।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করবে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের হাতে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।”
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্য
নির্বাচনের আগে ঘোষিত নয় দফা অগ্রাধিকার ইশতেহারের অন্যতম ছিল এই ফ্যামিলি কার্ড। বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে
নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর আর্থিক সুরক্ষা জোরদার হবে এবং দারিদ্র্য বিমোচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে বাজেটের মধ্যবর্তী সময়ে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলেও অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।
