বরিশালে আদালতে আত্মসমর্পণের পর ২০১৭ সালের মারধর মামলায় জামিন পেলেন সাবেক এমপি তালুকদার মো. ইউনুস।
আত্মসমর্পণের পর জামিনে ইউনুস
বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুস আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিন পেয়েছেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হলে বিচারক এস এম শরিয়াতুল্লাহ তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, একটি পুরোনো মারধরের মামলায় হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
কোন মামলায় জামিন?
আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড রোড এলাকার সরোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তি ২০১৭ সালে মারধরের শিকার হন।
ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসকে হামলার ‘হুকুমদাতা’ হিসেবে আসামি করা হয়।
সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণের পর তাঁর পক্ষে জামিন আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
আইনজীবীর বক্তব্য
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাইয়ুম খান কাউসার জানান, গত ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তালুকদার মো. ইউনুস আত্মগোপনে ছিলেন।
তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। ২০১৭ সালের একটি মামলায় হাজির হয়েই তিনি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জামিন নেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
তালুকদার মো. ইউনুস বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পুরোনো মামলায় সাবেক এমপির আত্মসমর্পণ ও জামিন স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পর বিভিন্ন মামলায় রাজনৈতিক নেতাদের আদালতে হাজিরা ও জামিন প্রক্রিয়া বাড়ছে।
আদালতের আদেশ ও পরবর্তী পদক্ষেপ
আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করলেও মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ আদালত নির্ধারণ করবেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেওয়া একটি স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামি আইনের চোখে নির্দোষ।
তবে মামলার অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আদালতের সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
সামনে কী?
এখন নজর থাকবে মামলার তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের ওপর। অভিযোগকারী পক্ষ কী ধরনের প্রমাণ উপস্থাপন করেন এবং প্রতিরক্ষা
কী যুক্তি দেন—তা-ই নির্ধারণ করবে মামলার গতি। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনার প্রভাব কতটা পড়বে, সেটিও সময়ই বলে দেবে।
