ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণতন্ত্র, শহীদদের স্মরণ ও কার্যকর সংসদ গঠনের অঙ্গীকারের কথা বলেন।
জনপ্রতিনিধিত্বশীল সংসদের যাত্রা শুরু: তারেক রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman বলেছেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না ও হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে একটি সত্যিকার অর্থে জনপ্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি এই সংসদে সমগ্র দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা।
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিহত শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন স্মরণে রাখবে।
নির্যাতিতদের স্মরণ
বিগত সরকারের সময় গুম, খুন ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “গুম, খুন, আয়নাঘরের বন্দিশালাসহ নানাভাবে যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং যেসব পরিবার স্বজন হারিয়েছেন, তাদের সবার অবদান আজ আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।”
তার মতে, কোনো নিপীড়ন বা দমন-পীড়ন দিয়েই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে থামিয়ে রাখা যায়নি। সাহসী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কারণেই দেশে আবারও গণতন্ত্র ফিরে এসেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
খালেদা জিয়ার সংগ্রামের স্মরণ
বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী Khaleda Zia-র রাজনৈতিক সংগ্রামের কথাও স্মরণ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য খালেদা জিয়া আজীবন আপসহীন লড়াই করে গেছেন। তিনি কখনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেননি।
তিনি আরও বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি খালেদা জিয়া দেখে যেতে পারেননি। এজন্য সংসদে দাঁড়িয়ে তাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
জিয়াউর রহমানের আদর্শ
বক্তব্যে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman-এর একটি বিখ্যাত উক্তিও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তাহলে আমি সেই দলেরই আছি।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বলেন,
ব্যক্তি বা দলের চেয়ে জনগণের স্বার্থই সবচেয়ে বড়—এটাই Bangladesh Nationalist Party-এর রাজনীতির মূল দর্শন।
প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে চান বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কার্যকর সংসদ গঠনের অঙ্গীকার
বিগত সরকার জাতীয় সংসদকে অকার্যকর করে রেখেছিল বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, নতুন সংসদকে যুক্তি-তর্ক, বিতর্ক এবং জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান তারা।
এ জন্য তিনি সংসদে উপস্থিত সব দলের সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করেন এবং বলেন, দল বা মত ভিন্ন হলেও একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত,
স্বাধীন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবার লক্ষ্য এক।
সভাপতিত্বের প্রস্তাব
সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ Khandaker Mosharraf Hossain-এর নাম প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৩ সালেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রাহমান সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্বের জন্য
প্রবীণ সংসদ সদস্য Maulana Abdur Rashid Tarkabagis -এর নাম প্রস্তাব করেছিলেন।
