ঈদে ২-৩ দিনে ঢাকা ছাড়বে দেড় কোটি মানুষ। অতিরিক্ত ভাড়া ও যানজট নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রস্তুতির কথা জানালেন সেতুমন্ত্রী।
ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল
আসন্ন ঈদ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে পারেন প্রায় দেড় কোটি মানুষ। মাত্র দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই এই বিপুলসংখ্যক যাত্রীর সড়ক, রেল ও নৌপথে যাতায়াতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে করে পরিবহন ব্যবস্থাপনা ও যাত্রীসেবাকে স্বাভাবিক রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভাড়া বেড়ে ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা
যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদকে কেন্দ্র করে অনেক ক্ষেত্রে পরিবহন ভাড়া বেড়ে গেছে। যেখানে সাধারণ সময়ে ভাড়া ৬০০ টাকা, সেখানে এখন তা ১০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এই অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আশ্বাস দিচ্ছে।
সরকারের প্রস্তুতি ও আশ্বাস
সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে যাত্রীরা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরতে পারেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবারের ঈদযাত্রা হবে স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন।
২০৭ স্পটে মনিটরিং
মন্ত্রী জানান, দেশের মহাসড়কগুলোতে সম্ভাব্য যানজটের ২০৭টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানে সার্বক্ষণিক মনিটরিং চলছে।
এছাড়া হাইওয়ে ও সেতুগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের যানজট না থাকলেও কয়েকটি স্থানে ধীরগতির যান চলাচলের খবর পাওয়া গেছে।
গোমা সেতুর উদ্বোধন
এদিন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় রাঙ্গামাটি নদীর ওপর নির্মিত গোমা সেতুর উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। এই সেতু চালু হওয়ায় স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হবে এবং ঈদযাত্রায়ও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফলক উন্মোচন ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
উপস্থিতি ও প্রশাসনিক সমন্বয়
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাবিবুর রশিদ, আবুল হোসেন খানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
তারা জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সব ধরনের সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্প সময়ের মধ্যে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থাপনা করা সবসময়ই কঠিন।
এর সঙ্গে যদি অতিরিক্ত ভাড়া ও যানজট যুক্ত হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ও সমন্বিত উদ্যোগ পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।
ঈদকে ঘিরে ঘরমুখো মানুষের ঢল বাংলাদেশের একটি পরিচিত চিত্র। এবছরও তার ব্যতিক্রম নয়।
সরকারের প্রস্তুতি ও নজরদারি সত্ত্বেও ভাড়া বৃদ্ধি ও চাপ সামাল দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
যাত্রীদের সচেতনতা ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ মিলেই নির্ধারণ করবে এবারের ঈদযাত্রা কতটা স্বস্তিদায়ক হবে।
