দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৭ শিশুর মৃত্যু। হাসপাতালে ভর্তি ৭২৯ শিশু, বাড়ছে সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ।
২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭ শিশুর মৃত্যু
দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টার মধ্যে এসব মৃত্যু ঘটে। মৃতদের মধ্যে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে নিশ্চিত হাম রোগে, আর বাকি পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে।
হাসপাতালে ভর্তির চাপ বাড়ছে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৭২৯ শিশু। এছাড়া নতুন করে ৮২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হঠাৎ করে এত বেশি সংখ্যক শিশু হাসপাতালে ভর্তি হওয়া স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। যদিও গত ২৪ ঘণ্টায় ৭১৩ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে, তবুও নতুন রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক।
ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ সংক্রমণ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া দুই শিশুই ঢাকা বিভাগের।
এছাড়া উপসর্গে মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে চারজন ঢাকা বিভাগের এবং একজন রাজশাহী বিভাগের।
সংক্রমণের ক্ষেত্রেও ঢাকা বিভাগ এগিয়ে। মোট শনাক্ত ৮২ জনের মধ্যে ৭৬ জনই ঢাকা বিভাগের।
রাজশাহীতে শনাক্ত হয়েছে ৪ জন এবং চট্টগ্রামে ২ জন।
উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে
গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ১,৩৭১ জন শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এর মধ্যে ৬১৫ জনই ঢাকা বিভাগের।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৭২৯ জনের মধ্যে ২৭৪ জন ঢাকা বিভাগের। তুলনামূলকভাবে রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে রোগীর সংখ্যা কম—রংপুরে ১১ জন এবং ময়মনসিংহে ১৭ জন ভর্তি হয়েছে।
মার্চ থেকে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৩০
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩০টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
তবে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৫৬ শিশুর, যা আরও বড় উদ্বেগের বিষয়। এই সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে
এসেছে ১৭ হাজার ২৪ জন শিশু। ভর্তি ১০ হাজার ৯৫৪ জন শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৭২১ জনের শরীরে হাম।
জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি ও করণীয়
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ এবং টিকাদানের মাধ্যমে এটি প্রতিরোধযোগ্য।
তবে টিকাদানে ঘাটতি, সচেতনতার অভাব এবং সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়ার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।
তারা অভিভাবকদের শিশুদের দ্রুত টিকা দেওয়ার পাশাপাশি উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
হাম ও হামের উপসর্গে শিশু মৃত্যুর এই ধারাবাহিকতা দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।
দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
