কুমিল্লায় ছিনতাইকারীদের হামলায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী নিহত। ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে প্রাণ হারালেন কর্মকর্তা
কুমিল্লায় ছিনতাইকারীদের হামলায় নিহত হয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। তাকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
ঘটনার ভয়াবহ বিবরণ
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় বাস থেকে নামার পরপরই একদল ছিনতাইকারী বুলেট বৈরাগীকে জোর করে একটি সিএনজিতে তুলে নেয়। পরে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে চলন্ত অবস্থায় সড়কে ফেলে দেয়।
এই নির্মম হামলার ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মরদেহ উদ্ধার ও গ্রেপ্তার
পরদিন সকালে স্থানীয়রা কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে র্যাব-১১ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা চিহ্নিত ছিনতাইকারী এবং তাদের বিরুদ্ধে পূর্বে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের মামলা রয়েছে।
পেশাগত পরিচয় ও কর্মজীবন
নিহত বুলেট বৈরাগী ৪১তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) হিসেবে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগে যোগ দেন। তিনি কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি পরিবারসহ কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় বসবাস করতেন।
শেষ যাত্রা ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা
কাস্টমস কমিশনার আব্দুল মান্নান জানান, প্রশিক্ষণ শেষে গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী বাসে রওনা হন বুলেট বৈরাগী।
পথে পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল তার। সর্বশেষ রাত ১টা ২৫ মিনিটে তিনি পরিবারের সদস্যদের জানান,
তিনি কুমিল্লার টমছমব্রিজ এলাকায় পৌঁছেছেন। এরপর থেকেই তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়কে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদার এবং অপরাধ দমনে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
কুমিল্লায় এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড আবারও প্রমাণ করল, ছিনতাই ও সড়ক অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-এর অভিযানে গ্রেপ্তার হলেও এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
