আদানি পাওয়ারের ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হলো জাতীয় গ্রিডে। বাড়বে উৎপাদন, কমতে পারে লোডশেডিং—জানাল বিপিডিবি।
আদানির ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, কমবে লোডশেডিং
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে নতুন স্বস্তির খবর এনে দিয়েছে ভারতের আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট। প্রায় ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ায় দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো নতুন বিদ্যুৎ
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা ৭টা ৪৭ মিনিটে ইউনিটটি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সফলভাবে সিঙ্ক্রোনাইজ করা হয়।
বর্তমানে এই ইউনিট থেকে প্রায় ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, যা দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন।
উৎপাদন বাড়লে কমবে লোডশেডিং
বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ধীরে ধীরে আরও বাড়ানো হবে। নতুন এই বিদ্যুৎ সংযোজন সার্বিক উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে সহায়তা করবে।
বিশেষ করে গ্রীষ্ম মৌসুমে যখন বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়, তখন এই অতিরিক্ত সরবরাহ লোডশেডিং কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চাহিদা ও উৎপাদনের ব্যবধান
বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ এপ্রিল দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট। তবে আদানি প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ ছাড়া সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ১৪ হাজার ৭১২ মেগাওয়াট।
এই ব্যবধানই মূলত লোডশেডিংয়ের প্রধান কারণ। নতুন ৯২৫ মেগাওয়াট যুক্ত হওয়ায় এই ঘাটতি কিছুটা হলেও কমে আসবে।
আরও ১২০০ মেগাওয়াট যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা
বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২৮ এপ্রিল থেকে আরও দুটি উৎস থেকে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর মধ্যে এসএস পাওয়ার এবং আরএনপিএল (RNPL) থেকে ৬০০ মেগাওয়াট করে মোট ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।
আরএনপিএল হচ্ছে বাংলাদেশের রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল) এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান নরিনকোর যৌথ উদ্যোগ। এই প্রকল্প চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে।
আদানি পাওয়ার প্রকল্পের গুরুত্ব
Adani Power-এর এই বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রকল্প বাংলাদেশ-ভারত জ্বালানি সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, যা দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবেলায় বড় ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমদানি করা বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে এটি কার্যকর সমাধান।
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
যদিও নতুন বিদ্যুৎ সংযোজন ইতিবাচক, তবে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে নজর বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি বড় অগ্রগতি।
এর ফলে তাৎক্ষণিকভাবে লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে টেকসই সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।
