৫ মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখল আপিল বিভাগ। তবে অন্য মামলায় থাকায় এখনই মুক্তি নয়।
খায়রুল হকের জামিন বহাল, আপিলে রাষ্ট্রপক্ষ হেরে
পাঁচটি মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক-এর জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন খারিজ করে আদালত এই আদেশ দেন, যা দেশের বিচারাঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আপিল বিভাগের রায়
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী-এর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন।
রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করলেও তা খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। ফলে পাঁচ মামলায় তার জামিন কার্যকর থাকছে।
যেসব মামলায় জামিন
খায়রুল হকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদলকর্মী হত্যা মামলা
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায়ে জালিয়াতির অভিযোগ
- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর মামলা
এই পাঁচটি মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান, যা এখন আপিল বিভাগও বহাল রেখেছে।
আইনজীবীদের বক্তব্য
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু।
শুনানি শেষে অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, “এই পাঁচ মামলায় জামিন বহাল থাকলেও আরও দুই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাই তিনি এখনই কারামুক্তি পাচ্ছেন না।”
গ্রেপ্তার ও মামলার পটভূমি
গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়, যার মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায়ে জালিয়াতির অভিযোগ অন্যতম। এই অভিযোগে শাহবাগ থানায় মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও বন্দর থানায়ও একই ধরনের অভিযোগে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।
হাইকোর্টের জামিন ও আপিল
গত ৮ মার্চ হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ চারটি মামলায় তাকে জামিন দেন এবং পরে ১১ মার্চ দুদকের মামলাতেও জামিন মঞ্জুর করা হয়।
এরপর রাষ্ট্রপক্ষ এই জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে। তবে আপিল বিভাগ সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন।
বিচারপতি হিসেবে দায়িত্বকাল
এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তার দায়িত্ব কার্যকর হয় এবং ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি অবসরে যান।
অবসরের পর তিনি তিন দফা আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
বর্তমান পরিস্থিতি
যদিও পাঁচ মামলায় জামিন বহাল রয়েছে, তবে অন্য মামলাগুলোতে গ্রেপ্তার দেখানো থাকায় খায়রুল হকের মুক্তি আপাতত অনিশ্চিত।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত, যেখানে উচ্চ আদালত হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে।
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দেশের বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
তবে অন্যান্য মামলার কারণে তার মুক্তি বিলম্বিত হওয়ায় পুরো বিষয়টি এখনো আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে।
