গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া এলাকায় একটি জুতার গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট।
শনিবার (০২ মে) বিকেলের তপ্ত রোদে হঠাৎই কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় রাজধানীর গুলিস্তান এলাকা। বিকেল আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটের দিকে গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া বিআরটিসি কাউন্টার সংলগ্ন একটি বহুতল ভবনের জুতার গোডাউনে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ব্যস্ততম এই এলাকায় আগুন লাগার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে চারদিকে চরম আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি সৃষ্টি হয়।
ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা
আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করেন।
ফায়ার সার্ভিসের সদর দফতরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রাসেদ বিন খালেদ সংবাদ মাধ্যমকে জানান, তারা বিকেল ৫টা ২৭ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবরটি পান।
খবর পাওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দ্রুততার সাথে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় আগুন নেভাতে কর্মীদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের অভিজ্ঞ কর্মীরা আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
যেখানে আগুনের সূত্রপাত
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, বিআরটিসি কাউন্টারের পাশের একটি পাঁচ তলা বাণিজ্যিক ভবনের তৃতীয় তলায় এই আগুন লেগেছে।
ওই তলাটিতে একটি বড় জুতার গোডাউন ছিল। যেহেতু জুতা তৈরিতে রাবার, আঠা এবং প্লাস্টিকের মতো দাহ্য পদার্থ ব্যবহৃত হয়, তাই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সর্বশেষ আপডেট
প্রাথমিকভাবে আগুনের তীব্রতা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
তবে গোডাউনে থাকা বিপুল পরিমাণ জুতা ও কাঁচামাল ভস্মীভূত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, লকডাউন পরবর্তী সময়ে ঈদের বাজারের প্রস্তুতি হিসেবে গোডাউনগুলোতে প্রচুর মাল মজুত করা ছিল।
ফলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্ত ও আগুনের কারণ
কীভাবে এই আগুনের সূত্রপাত হলো, সে বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস বা ভবন কর্তৃপক্ষ এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি। শর্ট সার্কিট থেকে নাকি অন্য কোনো উৎস থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে।
গুলিস্তান এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ওই এলাকার যান চলাচল সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশের সুবিধার্থে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ আশেপাশের রাস্তাগুলোতে যান চলাচল সীমিত করে দিয়েছে। স্থানীয় দোকানদাররা ভয়ে তাদের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সতর্কতা
গুলিস্তানের মতো জনাকীর্ণ এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা আধুনিক, তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠছে। এই অগ্নিকাণ্ড আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে:
- প্রতিটি বাণিজ্যিক ভবনে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকা আবশ্যক।
- বৈদ্যুতিক লাইনের নিয়মিত সংস্কার প্রয়োজন।
- জরুরি নির্গমন পথ বা ফায়ার এক্সিট পরিষ্কার রাখা জরুরি।
রাজধানীর গুলিস্তান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পাইকারি বাজার। এখানে একটি ছোট দুর্ঘটনাও বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত হস্তক্ষেপে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আমরা আশা করি দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং ব্যবসায়ীরা তাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবেন।
